| |

কয়রায় দাকোপে শিবসা নদীগর্ভে বিলীন বাঁধ ছাপিয়ে লোনা পানি

প্রকাশিতঃ 7:21 pm | August 14, 2018

আতিয়ার রহমান খুলনা অফিস : খুলনা দাকোপের ৩২ নং পোল্ডারের ওয়াপদা ভেড়ীবাঁধের ৫০ গজ রাস্তা শিবসা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অপরদিকে কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের গাববুনিয়া এলাকার ভেড়ীবাঁধ ছাপিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে।

অন্যদিকে আশাশুনির হাজরাখালীতে খোলপেটুয়া নদীর ভেড়ীবাঁধটি স্থানীয়দের প্রাণপণ চেষ্টায় স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার করা হলেও জোয়ারে তা আবারও ভেঙে গেছে। তলিয়ে গেছে শত-শত বিঘা মৎস্য ঘের ও ফসলি জমি। ধসে পড়েছে সহস্রাধিক কাঁচা পাকা ঘর। গৃহহীন হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ।

দাকোপ ৩১ নং পোল্ডারের কামিনী বাসিয়া পুলিশ ক্যাম্পের পশ্চিম পাশে ঢাকী নদীর ভয়াবহ ভাঙনের পর এবার ৩২নং পোল্ডারের নলিয়ান ফরেস্ট অফিসের দক্ষিণ পাশে ওয়াপদা ভেড়ীবাঁধের ৫০ গজ রাস্তা শিবসা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় নলিয়ান গ্রামের প্রায় ৪শ’ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে ৩১ নং পোল্ডারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দীর্ঘ কোন পরিকল্পনা না থাকায় এবং দায়সারা ওয়াপদার বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত করায় শত চেষ্টা সত্ত্বেও এ নদী ভাঙন রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলি জানায়। এদিকে কামিনী বাসিয়া ভয়াবহ নদী ভাঙনে সহায়-সম্বলহারা পরিবার ওয়াপদা ভেড়ীবাঁধের উপর মানবেতর জীবন যাপন করছে। ওয়াপদার বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় শত শত কৃষক তাদের আমন ধানের বীজতলা নিয়ে শঙ্কায় আছে।

সরজমিন ঘুরে ও নদীগর্ভে ঘরবাড়ি বিলীন হওয়া কামিনি-বাসিয়া এলাকার আইয়ুব আলী ফকির, আকবর আলী ফকির, রহিম ফকির, মোমিন মোড়ল, ছামাদ মোড়ল এবং একই এলাকার অসিম সানা ও মিল্টন গোলদারের সাথে কথা হলে তার অভিযোগ করে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের দীর্ঘ কোন পরিকল্পনা না থাকায় এবং দায়সারা কাজ করার কারণে গতকাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩১নং পোল্ডারের কামিনি বাসিয়া পুলিশ ক্যাম্পের পশ্চিম পাশের ওয়াপদার বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত করার শত চেষ্টা সত্তেও এ নদী ভাঙন রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। গত দু’দিনে স্থানীয় নদ-নদীতে ৫ থেকে ৬ ফুট পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় দাকোপ উপজেলার ৩১নং পোল্ডারের তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের কামিনী বাসিয়া পুলিশ ক্যাম্পের পশ্চিম পাশে তপন রায়ের বাড়ির সামনে প্রায় সাড়ে ৩শ’ গজ ওয়াপদা ভেড়ীবাঁধ সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় ওই স্থানে বসবাসরত ৩৪টি পরিবারের বসত ঘরবাড়ি ও স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়।

সুতারখালী ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম আলী ফকির জানান, সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় শিবসা নদীর প্রবল জোয়ারের তোড়ে নলিয়ান ফরেস্ট অফিসের দক্ষিণ পাশে প্রায় ৫০ গজ ওয়াপদা ভেড়ীবাঁধ ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায়। এতে নলিয়ান গ্রামের বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় ৪শ’ পরিবার সম্পূর্ণভাবে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে বাঁধটি সংস্কারের জন্য বারবার চেষ্টা করা হলেও নদীর প্রবল জোয়ারের তোড়ে তা আবারও ভেঙে যাচ্ছে।

তিলডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান রনজিত কুমার মন্ডল জানান, পাউবোর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে কামিনী বাসিয়া পুলিশ ক্যাম্পের পশ্চিম পাশের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধটি সংস্কারের এগিয়ে না আশায় এ নদী ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এ বাঁধটি সংস্কারের জন্য পাউবো কর্তৃপক্ষকে বারবার বলা হলেও তারা অদ্যাবদি পর্যন্ত সংস্কার বা বিকল্প বাঁধ নির্মাণে এগিয়ে আসেনি।

গতকাল ৩৪টি পরিবার তাদের বসতঘর বাড়ি হারিয়ে ওয়াপদা রাস্তার উপর খোলা আকাশের নিচে তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। শিবসা ও ঢাকী নদীর মোহনায় ভেঙে যাওয়া বাঁধটি দ্রত সংস্কার বা বিকল্প বাঁধ নির্মাণ করা না হলে এ বাঁধের বাকি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে ৩১ পোল্ডারের চালনা পৌরসভাসহ তিলডাঙ্গা ও পানখালী ইউনিয়ন প্লাবিত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মারফুল আলম বলেন, সরজমিনে কামিনি বাসিয়া নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। নদীগর্ভে বিলীন হওয়া ৩৪টি পরিবারের আর্থিক সহায়তা ও পুর্নবাসনের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্র্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। এ নদী ভাঙনের কারণে অনেক পরিবারের বসতঘর বাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় তারাও আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। সকল ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতির পরিমাণ ও নামের তালিকা প্রস্তুত করার জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উপজেলার ৩২ ও ৩৩ নং পোল্ডারের বাঁধ নির্মাণের কাজ বিশ্বব্যাংক হাতে নিয়ে কাজ শুর করায় ওই পোল্ডার দু’টির রক্ষণাবেক্ষণের দায় দায়িত্ব এখন তাদের। তাই এই মুহূর্তে ওই দু’টি পোল্ডারের কাজ পাউবো করতে পারছে না। তবে বিশ্ব ব্যাংক অর্থায়নে চলমান বাঁধ নির্মাণ কাজের অংশ হিসেবে তারা নলিয়ান ফরেস্ট অফিসের পাশে ভেঙে যাওয়া বাঁধটি দ্রত সংস্কার করবেন।

এদিকে ৩১নং পোল্ডারের উপ-সহকারী প্রকৌশালী হুমায়ুন কবিরের সাথে কথা হলে তিনি বলেন ঝুঁকিপূর্ণ ভাঙন এলাকায় কাজ চলছে। তিনি আরো বলে ৩১নং পোল্ডারে কোন দায় সারা কাজের কথা সঠিক নয়। কোন প্রকল্পের কাজ শেষ হলে কেন্দ্রীয় টিমের কর্মকর্তারা যাচাই-বাছাই করেই তবে বিল দেয়।

কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের গাববুনিয়া এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভেড়ীবাঁধ ছাপিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। সেখানে ভয়াবহ ভাঙনের কারনে নদীর পার্শ্ববর্তী জনসাধারণ রয়েছে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ জররী ভিত্তিতে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্বেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে কাজ করছে এলাকাবাসি। পানি উন্নয়ন বোর্ড কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এ জনপদের সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পাউবোর ১৩/১৪-২ পোল্ডারের শাকবাড়িয়া নদীর গাব্বুনিয়া ভেড়ীবাঁধ ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়েছে। স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বেশ কয়েক দিন ভাঙন রোধে কাজ করলেও নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভেড়ীবাঁধ ছাপিয়ে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। তাৎক্ষণিক এলাকাবাসী কাজ করে পানি আটকাতে পারলেও রাতের জোয়ার নিয়ে তারা শঙ্কিত। ভাঙন আতঙ্কে এলাকা ছাড়ছে স্থানীয় জনগণ।

উত্তর বেদকাশি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সরদার নুরল ইসলাম বলেন, ‘গাব্বুনিয়া এলাকার ভেড়ীবাঁধে প্রায় ভয়াবহ ভাঙন ধরেছে। বেশ কিছু দিন সেখানে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করে কোন রকমে পানি আটকানো সম্ভব হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই ভাঙন কবলিত এলাকায় চলাচলের জন্য সকল প্রকার যানবাহন বন্ধ রাখা হয়েছে ।

কিন্তু গতকাল দুপুরে স্থানটির প্রায় ৫০/৬০ হাত ভেড়ীবাঁধ এলাকা ছাপিয়ে জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। তাৎক্ষণিক বস্ত মাটি ভরাট করে পানি আটকানো হয়েছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিমুল কুমার সাহা বলেন, গাব্বুনিয়া ভেড়ীবাঁধের বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। জররী ভিত্তিতে ভাঙনরোধে কাজ করা হবে বলে তিনি জানান।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares