| |

দক্ষ কৃষিবিদ ও বিজ্ঞানী তৈরিতে আরও যত্নবান হতে হবে-রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশের জনপ্রিয় ও সর্বশেষ খবর পেতে আ্যপসটি ইনস্টল করুন

প্রকাশিতঃ 1:26 am | July 23, 2018

স্টাফ রিপোর্টার : রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ বলেছেন এ দেশের কৃষি সম্ভাবনা বিকাশের লক্ষ্যে ১৯৬১ সালের ১৮ আগষ্ট বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। আজকে কৃষির যে উন্নয়ন তার পেছনে রয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনন্য ভূমিকা। কৃষির সকল মৌলিক ও প্রায়োগিক বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের মাধ্যমে দক্ষ কৃষিবিদ তৈরির পাশাপাশি লাগসই কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণে এ বিশ্ববিদ্যালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চত্বরেই কৃষিবিদদের প্রথম শ্রেনীর মর্যাদা প্রদানের ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছিলেন। আমি আজ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে একাত্তরে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালী জাতি ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতার লাল-সবুজের পতাকা, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।

রাষ্ট্রপতি আরো বলেন বিশ্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়ন বিস্ময়ের এক উজ্জল দৃষ্টান্ত। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে সমুন্নত রেখে বর্তমান সরকার দেশের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে অসামান্য উন্নয়ন করে চলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় রূপকল্প ২০২১ ও রূপকল্প ২০৪১ অনুসরণ করে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন যুদ্ধে জয়লাভ করতে হবে। এ জন্য কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন অপরিহার্য। কেননা, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ও স্থিতিশীলতা সংরক্ষণে কৃষির ভূমিকা আজো মূখ্য। বর্তমান সরকারের নিরলস প্রচেষ্টায় জলবায়ূ পরিবর্তনজনিত বৈরিতা মোকাবেলা করে খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ একটি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

রোববার ২২ জুলাই বিকেলে ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে বাকৃবি’র সাফল্য ও গৌরবের ৫৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও অ্যালামনাই উদযাপন কমিটির আহবায়ক প্রফেসর ড. মোঃ আলী আকবরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ আরো বলেন ধান, গম, ভুট্টা, সবজি, মাছ ও মাংস উৎপাদনে বিশ্বের অন্যান্য দেশের গড় উৎপাদনকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ অব্যাহত ভাবে এগিয়ে চলছে। এটি সম্ভব হয়েছে বর্তমান সরকারের বাস্তবমুখী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে। বিশেষ করে কৃষি ভর্তূকি, কৃষকদের অনুকুলে সার সেচ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানী বাবদ ব্যাপক ভিত্তিতে কৃষি সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি কৃষি বিজ্ঞানী ও কৃষিবিদদের নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই এ অভাবনীয় সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। প্রধান অতিথি আরো বলেন, বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে, জ্ঞান অর্থনীতির যুগ।

তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ এই বিশ্বব্যবস্থায় একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে তার আপন বৈশিষ্ট্য নিয়ে টিকে থাকতে হলে তার স্থানিক, জাতিক ও বৈশ্বিক অবস্থান স্পষ্ট করতে হয়। এটি সুনির্দিষ্ট করা সম্ভব প্রাতিষ্ঠানিক উপযোগিতা, মান ও আর্ন্তজাতিক চারিত্র্য নিশ্চিত করার মাধ্যমে। আমি জেনে আনন্দিত যে, উচ্চতর কৃষি শিক্ষার পথিকৃৎ ও প্রধান বিদ্যাপীঠ হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় তার লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থেকে শিক্ষা ও গবেষণায় বরাবরই বিশেষ যতœবান। এরই ধারাবাহিকতায় এখানকার শিক্ষা কারিকুলাম নিয়মিত হালনাগাদ করা যাচ্ছে এবং জনগন ও মাঠের চাহিদা অনুযায়ী নতুন নতুন বিষয়ে শিক্ষাদানের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হাওর ও চর উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের কাজ ইতোমধেই শুরু হয়েছে জেনে আমি খুশি হয়েছি। হাওর ও চর উন্নয়ন ইনস্টিটিউট অবহেলিত হাওর অঞ্চলের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।

মহামান্য রাষ্ট্রপতি আরও বলেন ক্রমবর্ধিত জনসংখ্যা, জন-জমির স্বল্প অনুপাত, জলবায়ু ও পরিবেশগত অবস্থা, অবকাঠামো ও বিভিন্ন স্থাপনার বিস্তৃতিতে কৃষি জমি উদ্যেগ জনক হারে হ্রাস পাচ্ছে। ভূগর্ভস্থ্য পানির উপর নির্ভরতা সহ বিভিন্ন সমস্যা মোকাবেলা করে বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়ন ধারা কে এগিয়ে নিতে হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব আজ বাস্তবতা। জীববৈচিত্র হুমকির মুখে। তাই কৃষিতে আমাদের অর্জিত সাফল্যকে ধরে রাখার পাশাপাশি একে এগিয়ে নিতে হলে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সমস্যাবলীর সমাধানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধীকার দিতে হবে।

জীববৈচিত্র রক্ষায় সকলকে সচেতন হতে হবে। প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলার যুৎসই কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। দূর্যোগ সহনশীল বিভিন্ন জাতের ফসল উদ্ভাবন করতে হবে। বর্তমান সরকার গৃহীত কৃষি নীতিমালার সুষ্ঠু বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে দক্ষ কৃষিবীদ ও কৃষি বিজ্ঞানী তৈরিতে এই বিশ্ববিদ্যালয় আগামী দিনগুলোতে আরও বেশি যতœবান হবে-এটি আমাদের একান্ত প্রত্যাশা। আমাদের গ্রামের দীকে যেতে হবে। কৃষি বিপ্লবের স্বার্থেই আমাদের ইকনমিকে গনমুখি করতে হবে।

এ সময়ে অন্যন্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ধর্মমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, অমন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও বা.কৃ.বি’র অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি কৃষিবিদ ড. মোঃ আবদুর রাজ্জাক এমপি, সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আবদুল মান্নান এমপি, বাকৃবি অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের নির্বাহী সম্পাদক কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশা।
মূল প্রবন্ধকার সাবেক উপাচার্য ড. এম.এ.সাত্তার মন্ডল।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ জসিম উদ্দিন খান। এসময় অ্যালামনাই এসাসিয়েশনের সদস্যবৃন্দ, শিক্ষকমন্ডলী, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, কৃষিবিদবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ বাকৃবি চত্বরে হাওর ও চর উন্নয়ন ইনস্টিটিউট এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উদ্বোধন করেন।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares
error: Content is protected !!