| |

সাতক্ষীরায় বন্দুকযুদ্ধে দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত

প্রকাশিতঃ 2:54 pm | July 15, 2018

স্টাফ রিপোর্টার : পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। এ সময় পুলিশের পাঁচ সদস্য আহত হয়েছে । ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শুটার গান,এক রাউণ্ড গুলি, তিন কেজি গাঁজা ও ২০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে ।

শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে সাতক্ষীরা সদরের বাঁশদহা কয়ারবিলের ব্রীজের পশ্চিমপাশের বেড়িবাঁধের নীচে কড়াই বাগানে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

নিহত দুই মাদক ব্যবসায়ী হলেন সদর উপজেলার বাঁশদহা গ্রামের আব্দুল গনির ছেলে দেলোয়ার হোসেন(২৮) ও কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছি গ্রামের আবুল কাসেমের ছেলে আবুল কালাম আজাদ(৪৫)। তারা দুজনেই আন্তঃজেলা মাদক ব্যবসায়ী বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলাও রয়েছে।

নিহত দেলোয়ার হোসেনের অন্তঃস্বত্বা স্ত্রী শাহানারা খাতুনের অভিযোগ, তার স্বামী কখনো মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তার নামে কোন মামলাও নেই। শনিবার রাত ৮টার দিকে বাঁশদহা বাজারের পাশে তার স্বামীর নিজস্ব সুপেয় পানি তৈরির কারখানা থেকে দেলোয়ার ও কালামকে আটক করা হয়। পুলিশ স্থানীয় কুখ্যাত চোরাঘাট মালিক নাজমুলের কথামত মাদক উদ্ধারের গল্প বানিয়ে তার স্বামীকে গুলি করে হত্যা করেছে।

এদিকে নিহত কালামের ভাই জুলফিকারের অফিভেযোগ, তার ভাই কালামের বিরুদ্ধে বিজিবি’র দায়েরকৃত দু’টি মামলা রয়েছে। তাকে বাঁশদহা থেকে রাত ৮টার দিকে তুলে নিয়ে বন্দুকযুদ্ধের নামে হত্যা করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ আহমেদ জানান শনিবার বিকেলে মাদক ব্যবসায়ী দেলোয়ার ও আবুল কালামকে কিছু গাঁজা ও ফেনসিডিলসহ গোয়েন্দা পুলিশ বাঁশদহা বাজার থেকে আটক করে। রাতে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা স্বীকার করে যে আজ রাতে মাদকের একটি বড় চালান ভারত থেকে আসবে। তাদেরকে নিয়ে মাদকের চালান উদ্ধারে যায় পুলিশ।

তিনি জানান, বাঁশদহার কয়ার বিল এলাকায় পৌঁছাতেই আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা তাদের সহযোগীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছোড়ে । এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। তিনি জানান গোলাগুলির এক পর্যায়ে তাদের দুজনকে গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। গ্রামবাসীর সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে রোববার ভোর সোয়া ৫টায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত ডাক্তার ইকবাল মাহমুদ তাদের মৃত ঘোষনা করেন।

তাদের কাছ থেকে একটি ওয়ান শুটার গান, ১ রাউন্ড গুলি, তিন কেজি গাজা ও ২০ বোতল ফেনসিডিল কিছু উদ্ধার করা হয়েছে।

আহত পুলিশ সদস্য উপপরিদর্শক রিয়াদুল ইসলাম, উপপরিদর্শক সুমন , সহকারি উপপরিদর্শক মাজেদুল ও দুই কনস্টেবল রুবায়েত ও তুহিনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ ইকবাল মাহমুদ জানান, আবুল কালামের কপালের ডান পাশে ও দেলোয়ারের গলায় গুলি রেগেছে। রবিবার ভোর ৫টা ১০ মিনিটে সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে তাদেরকে মৃত বলে ঘোষনা করা হয়।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares