| |

মীরসরাইয়ে কৃষকদের ফসলি জমির মাটি কেটে নেয়া ও দখল করার অভিযোগে মানববন্ধন

প্রকাশিতঃ 8:56 pm | May 16, 2018

সানোয়ারুল ইসলাম রনি, মীরসরাই প্রতিনিধি : মীরসরাই উপজেলার অর্থনৈতিক জোন এলাকায় কৃষকদের ফসলি জমির মাটি জোর করে কেটে নিয়ে যাওয়া ও একজনের জমি অন্যজনের জবর দখলের চেষ্টার প্রতিবাদে কৃষকরামঙ্গলবার ( ১৫ মে) সকাল ১১টায় এক মানববন্ধন করে। এসময় ভুক্তভোগি চরশরত গ্রামের কৃষক হিরালাল অভিযোগ করে বলে আমার প্রায় ৪ একর জমির মাটি জোর করে কেটে নিয়ে যাচ্ছিল ফারুক ও মনজু সিন্ডিকেট।

তবে তাৎক্ষনিক থানা পুলিশের সহযোগিতা চাইলে পুলিশের অভিযানের পর দখলকারীরা পালিয়ে যায়। অপর কৃষক দিদারুল আলম বলে আমি ও আমার ভাই বাক প্রতিবন্ধি কৃষক জামাল উদ্দিন এর পৈত্রিক সূত্রে ৭৭ শতক জমির মালিকানার মধ্যে ৫০ শতক জমি জনৈক ফারুক এর কাছে বিক্রি করা হয়েছিল।

কিন্তুফারুক ও আব্দুর রহমান গং এখন আমাদের পুরো জমি জোর করে দখল করে সেখানে মাটি কাটতে চাইছে। আমি আমার বাকপ্রতিবন্ধি ভাই জামালকে জমিতে না যেতে হুমকি ধমকি দিচ্ছে। মানববন্ধনকালে প্রায় অর্ধশত কৃষক উপস্থিত ছিল। কৃষকরা অভিযোগ করে এখানে জবরদখলকারীদের বিরুদ্ধে কোন প্রতিবাদ কর্মসূচি দিলে স্থানীয় দখলকারীরা তাদের উপর হামলা করার ঘটনা ও ঘটছে, তাই অনেক কৃষক ভয়ে মুখ খুলতে চায় না। কৃষক নুরুল আমিন, আলাউদ্দিন চৌধুরী, সাইদুল ইসলাম সহ অনেক কৃষক উপস্থিত গনমাধ্যম কর্মীদের জানায় সকলেরই এই গ্রামে এবং অর্থনৈতিক জোন সংলগ্ন এলাকায় কম বেশী জমি রয়েছে। এখানে এখন একজনের জমি অন্যজনে দখল করার প্রবণতা দিনে দিনে বাড়ছে। তাই সকলেই নিজ নিজ জমি নিয়ে শংকিত।

এই বিষয়ে স্থানীয় ৬ নং ইছাখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল মোস্তফা বলেন এমন অনেক অভিযোগ আমার কাছে ও আসছে, আমি এখানে বিতর্কের মুখে না পড়ার জন্য সকল অভিযোগ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কাছেই হস্তান্তর করছি। উক্ত মানববন্ধনকারী কৃষকদের জমির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি জানি এই বিষয়টি ও আইনপ্রয়োকারী সংস্থার তদন্তাধিন রয়েছে। তিনি বলেন ইছাখালীতে অর্থনৈতিক জোন হবার সুবাধে এখানে জমির দাম বেড়ে যাওয়ায় নানামুখি সমস্যা দিনে দিনে বেড়ে চলেছে। তাই এখানে স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প জরুরী।

মানববন্ধনস্থলের উক্ত দখলের চেষ্টার ঘটনার বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই বিপুল চন্দ্র নাথ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন উক্ত কৃষকদের সকল অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সকল অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এই বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ওসি জাহিদুল কবির বলেন ইছাখালীর উক্ত অর্থনৈতিক জোন এলাকায় নানা উন্নয়নমুখি কর্মকান্ড বাড়ছে আরইতিমধ্যে অনেক ঘটনা ও সৃষ্টি হচ্ছে।

সেখানে পুলিশের স্থায়ী ক্যাম্প এর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে। তবু ও ফাঁড়ি স্থাপনের পূর্ব পর্যন্ত সকল অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন কঠোর নজরদারি রেখেছে। এদিকে পর্যক্ষেক মহলের ধারনা, মীরসরাইয়ের অর্থনৈতিক জোন এলাকায় নানান অপরাধ দমনে নিয়মিত প্রশাসনিক ভ্রাম্যমান আদালত প্রয়োজন।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares
error: Content is protected !!