| |

কর্ণফুলীতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ,দু’টি তদন্ত কমিটি

প্রকাশিতঃ 9:48 pm | April 21, 2018

পটিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে সেলিম চৌধুরী : চট্টগ্রামের বির্তকিত স্কুল শিক্ষক আবদুর রহিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে অনিয়ম, দূর্নীতি ও অনৈতিক কাজের অভিযোগ ওঠেছে। কর্ণফুলী উপজেলার কালারপোল হাজী মোঃ ওমর মিঞা চৌধুরী বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিমের উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কর্ণফুলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাবুল সূত্রধর ও পটিয়া একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের (অতিরিক্ত কর্ণফুলী) মোঃ সানাউল্লাহ এই দু’টি তদন্ত টিমের প্রধান। মূলত বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির চার অভিভাবক সদস্য মো: নুরুল আমিন, মো: কামাল, নাছিমা আকতার ও মো: আহসান হাবিব কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

ইতোপূর্বে ওই শিক্ষক অনিয়ম, দূর্নীতি ছাড়াও অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ায় রাউজান নোয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও পরবর্তীতে নগরীর গোসাইলডাঙ্গার বারিক মিঞা বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বরখাস্ত হন। ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর কর্ণফুলীর কালারপোল হাজী মোঃ ওমরা মিঞা চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন বির্তকিত ওই শিক্ষক। এই ঘটনায় বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি, অভিভাবক ও গ্রামবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহায় কালারপোল হাজী মোঃ ওমরা মিঞা চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়। ওই বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যা ১ হাজার ১শ। শিক্ষক আবদুর রহিম কালারপোল স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার নানা অনিয়ম,দূর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন।

জেএসসি, এসএসসি পরীক্ষার অতিরিক্ত ফি, ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণীর প্রশ্নপত্র তৈরির অতিরিক্ত টাকা উত্তোলন, কোচিং ফি বাণিজ্য, গোপনে স্কুলের গাছ বিক্রী, শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটি ও অভিভাবকদের সঙ্গে দুব্যবহার ছাড়াও নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটির সভা না করায় ম্যানেজিং কমিটির পক্ষ থেকে লিখিত এই অভিযোগ করেছেন।

এইসবের প্রতিবাদ করতে গিয়ে শিকলবাহা এলাকার নুরুল আলমের পুত্র মোহাম্মদ বাহাদূরের বিরুদ্ধে শিক্ষক আবদুর রহিম চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ফৌজধারী দন্ডবিধির অপরাধে একটি মামলাও করেছেন। মামলা নং- ২৮১/২০১৭। কালারপোল এলাকার বাসিন্দা বাহাদুর খাঁন অভিযোগ করেছেন, তাদের এলাকার স্কুলটির প্রধান শিক্ষকের নানা অনিয়মের কারণে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। বর্তমানে তিনি (প্রধান শিক্ষক) নানা বির্তকে জড়িয়ে পড়েছেন।

কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজেন ব্যার্নাজি বলেন, কালারপোল স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত যে অভিযোগ পাওয়া গেছে তা তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে সত্যতা পেলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে স্কুলের প্রধান শিক্ষক এম,এ আবদুর রহিম তার অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, একটি পক্ষ স্কুল থেকে সুযোগ সুবিধা নিতে না পেরে তার বিরুদ্ধে অপ্রচার শুরু করেছে।

এদিকে, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ তদন্ত শুরু করেছেন কর্ণফুলী উপজেলা প্রশাসন। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাবুল সূত্রধর ও পটিয়া একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের কর্মকর্তা (অতিরিক্ত কর্ণফুলী) মোঃ সানাউল্লাহ এই তদন্ত করছেন। তদন্ত শুরুর বিষয়টি বুধবার দুপুরে কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজেন ব্যার্নাজি স্বীকার করেছেন।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।