| |

হালুয়াঘাটে বিআর-২৮ ধানের মহামারি “কৃষকের মাথায় হাত” ঋণের দায়ে দিশেহারা কৃষক

প্রকাশিতঃ 7:00 pm | April 20, 2018

জোটন চন্দ্র ঘোষ : ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলায় বোরো আবাদী বিআর-২৮ ধানে ব্লাস্ট রোগে মহামারি দেখা দিয়েছে ফলে বিপাকে পরেছেন উপজেলার হাজার হাজার কৃষক-কৃষাণীরা।

অত্র উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়নে এর প্রভাব পড়েছে। বিআর-২৮ ধানের বাম্পার ফলন হয়েছিল উপজেলায়। উল্লেখ্যযোগ্য ফসল ঘরে তুলার অপেক্ষায় ছিল কৃষক-কৃষাণীরা কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ফসল ঘরে তুলার আগেই জমিতেই তাদের কাঙ্খিত ফসল ধ্বংস হয়ে পড়েছে। ফলে ঋণের দায়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকগণ। একদিকে খোরাকির চিন্তা অন্য দিকে ব্যাংকিং ঋণ পরিশোধের ঝামেলা কিভাবে মোকাবিলা করবেন ভেবে কোল কিনারা পাচ্ছেন না ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকগণ।

একাধিক কৃষক জানায়, বিআর-২৮ ধান ছাড়া অন্য কোন প্রকার ধানে এরকম সমস্যা নেই। ফসলের মাঠে সমস্ত ধান চিটা হয়ে গেছে। কৃষি অফিসারের স্মরাণাপন্ন হলে তাদেরকে বলেন এ রোগটির নাম হচ্ছে ব্লাস্ট কিন্তু সঠিক সময়ে ঔষধ প্রয়োগ করা হলে হয়তো আবাদি জমির ফসল গুলি নষ্ট হতো না। তাদেরকে ফিলিয়া, টুপার, নাটিবো, নামের কয়েকটি ঔষধ লিখে দেয়। কিন্তু মরা পুলাই বাপ ডাকে না ! বলে আমরা ঔষধ দেই নাই। মরা ফসলের মাঠে বিষ দিলে লাভ কি হবে? ফসলি মাঠের কয়েক হাজার একর জমির বিআর-২৮ ধান সম্পুর্ণ্য চিটা হয়ে গেছে। তার পরেও নিজের জমিতে ঔষধ প্রয়োগ করেন কিন্তু কোন লাভ হয়নি। কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন কিভাবে পরিশোধ করবেন জানেন না। এরকম হাজারো কৃষক রয়েছে অত্র উপজেলায়।

গাজিরভিটা ইউনিয়নের উত্তর নলকুড়া গ্রামের হবী মিয়া, বিলডোরা ইউনিয়নের নিশচিন্তপুর গ্রামের ফজল মিয়ার পুত্র রফিকুল ইসলাম বলেন, তার তিন একর বোর আবাদী বিআর ২৮ ধানের মাঠ সমস্ত চিটা হয়ে গেছে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে ২৮ ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্ত মাঠে গিয়ে দেখেন সমস্ত ফসলের মাঠ চিটা হয়ে গেছে। বটগাছিয়া কান্দা গ্রামের মিরাজ আলীর পুত্র দুলাল মিয়া বলেন তার ৮ একর ২৮ ধানের মাঠ চিটা হয়েছে। প্রতি একর ধানের আবাদ করতে তার প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ব্যায়ে ৮ একর জমিতে বোর আবাদ করার পর তিনি একমণ ধানও ঘরে তোলতে পাড়বেন না । ঐ এলাকার একাদিক কৃষক জানায়, আমাদের বটগাছিয়াকান্দা এলাকায় প্রায় ২৫ শত একর বিআর-২৮ ধান চিটে হয়েছে। কিভাবে এমন হল তার কোন জবাব তাদের জানা নেই বলে জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুলতান আহমেদ বলেন, অত্র উপজেলার সকল কৃষকদেরকে বার বার নিষেধ করেছেন বিআর-২৮ ধান আবাদ করতে। কিন্ত স্থানীয় কৃষকগণ অধিক ফলনের আশায় তারা বিআর-২৮ ধান চাষাবাদ করেন। উচ্চ ফলসশীল জাতের হাইব্রীড ধান চাষাবাদের জন্য কৃষকদের পরামর্শসহ অনুরোধ করে ছিলেন। বিআর-২৮ ধান ব্যাতীত অন্য কোন ধানে এমন হয়নি। জড়ো হাওয়া সহ শিলা বৃষ্টির কারণেই এমনটি হতে পাড়ে। যে রোগের কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তার নাম ব্লাস্ট। যদি সময়মত প্রতিষেধক ঔষধ প্রয়োগ করা হতো তাহলে হয়তো ক্ষতির পরিমাণ কমে আসত। হঠাৎ দুএকটি ধানের শীষে চিটা দেখা গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে দু-তিনদিনের ভিতরেই সমস্ত ফসলের মাঠে চিটা দেখা দেয়। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের প্রায় ৩ হাজার হেক্টর ফসলের ক্ষতির বিষয়টি উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে লিখিত আবেদনের মাধ্যমে জানিয়েছেন।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।