| |

শুভ নববর্ষ-১৪২৫

প্রকাশিতঃ 3:47 pm | April 14, 2018

সমগ্র বিশ্বের তাবৎ বাংলা ভাষাভাষি মানুষের জীবনে পহেলা বৈশাখ হৃদয় বর্ষের নবদিন। বাস্তবতার নিরিখে ইংরেজি ক্যালেন্ডারের তারিখ মিশে গেছে আমাদের কর্মজীবনের সাথে। কিন্তু বাংলা বর্ষপুঞ্জি আমাদের একান্তই নিজস্ব হৃদয়ের ভালোবাসা দিয়ে মুড়িয়ে রাখা আপন ঐতিহ্য।

বাংলাদেশের প্রকৃতি ও ফসলের ওপর নির্ভর করে মহামতি সম্রাট আকবর সূচনা করেছিলেন বাংলা সনের। হাজার বছর ধরে বাংলার মানুষ অনুসরণ করে আসছে এই বর্ষপঞ্জিকা। সেই সম্রাট আকবরের প্রবর্তিত বাংলা নববর্ষই আজ বাঙালিদের প্রাণের অনুষ্ঠান ‘পহেলা বৈশাখ’। যা প্রাচীন কৃষি সভ্যতার অংশ। বাংলার মহাজন-দোকানদাররা শ্রমজীবী কৃষকদের কাজ থেকে বকেয়া তুলতে এই দিনে হালখাতার আয়োজন করতেন।

বাংলাদেশের প্রায় শতকরা ৮০ ভাগ মানুষের বসবাস গ্রাম বাংলায়। কৃষি কাজ তাদের প্রধান জীবিকা। তাই বাংলা বর্ষ তাদের দৈনন্দিন কর্মকা-ে গাঁথা হয়ে আছে অবিচ্ছেদ্যভাবে। বৈশাখী মেঘের কান্নায় যখন চৈত্রের শুষ্ক মাটি ভিজে যায় তখন জমিতে পড়ে প্রথম হাল। জ্যৈষ্ঠে কর্ষণ শেষে আষাঢ়ে_শ্রাবণে ছড়ায় বীজ, রোপে ফসলের চারা। ভাদ্রের ফসল পাকে আশ্বিনে। কার্তিকে গোলায় ওঠে ধান, পৌষ ফাল্গুনে তাই মেলা, যাত্রা গান বা পুঁথি পাঠ নানা রকম পালা পার্বণ।

পৃথিবীর সব দেশেই দেশীয় সংস্কৃতি, জনগণের অনুভূতি, আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিভিন্নভাবে নববর্ষ উদযাপিত হয়। সবার প্রত্যাশা থাকে নতুন বছরে অতীতের সব গ্লানি ধুয়ে মুছে নতুনভাবে শুরু হোক জীবন। পুরোনা বছরের জীর্ণতা ঘুচে যাক, নতুন বছরটি সবার জন্য বয়ে আনুক সুখ ও সমৃদ্ধি।

তবে বিশ্ব প্রেক্ষাপটে যে বিধ্বংসী কার্যক্রম এবং অপতৎপরতা শুরু হয়েছে, তার হাওয়া লেগেছে আমাদের বাংলাদেশেও। তাছাড়া আমাদের অভ্যন্তরীণ ও রাজনৈতিক দলগুলো সহযোদ্ধা এবং প্রতিপক্ষ হওয়ার বদলে একে অপরের শত্রুতে পরিণত হয়েছে। যা একটি গণতান্ত্রিক দেশের প্রেক্ষাপটে অশুভ ইঙ্গিত। তাই নববর্ষের এই শুভ যাত্রায় আমাদের দৃপ্ত শপথ হোক ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। শুভ হোক নববর্ষ, সুন্দর থাকুক বছরের প্রতিটি দিন।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares