| |

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগারের দায়ীত্বরত জেলার সহ ৭ কারারক্ষীর বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিতঃ 1:31 am | March 26, 2018

ফয়সাল আজম অপু,চাঁপাইনবাবগঞ্জ :  চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগারের নিজস্ব ষ্টোরের সামনে মহিলা কারারক্ষীর স্বামীকে জেলার কর্তৃক মারপিটের অভিযোগে কারাগারের দায়িত্বরত জেলার সহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগারের আরো ৭জন কারারক্ষীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার শরীফুল ইসলাম ও প্রধান কারারক্ষী মফিজ সহ আরো পাঁচ জনের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন এক মহিলা কারারক্ষীর স্বামী।

রোববার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমলি আদালত ‘ক’ অঞ্চলে এ মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী চাঁপাইনবাবগঞ্জ কারাগারের মহিলা কারারক্ষী আল রোজির স্বামী তরিকুল ইসলাম বকুল।

বাদীর আইনজীবী নুরুল ইসলাম সেন্টু জানান, ১৯ মার্চ বিকেলে তরিকুল ইসলাম বকুল কারাগারের ফটকের একটি কারাগারের নিজস্ব ষ্টোরে বাচ্চার জন্য আইসক্রিম কিনতে যান। এ সময় দোকানীর সঙ্গে অতিরিক্ত মূল্য নিয়ে তার বাগবিতণ্ডা হয়।

এই ঘটনার কয়েক ঘন্টা পরে জেলার শরীফুল ইসলাম ও প্রধান কারারক্ষী মফিজ, সহকারী কারারক্ষী কলিম উদ্দীন সহ আরো ৫ জন কারারক্ষী মিলে তরিকুল ইসলাম বকুলকে মারধর করে। পরে পুলিশ ডেকে তাকে আটকের চেষ্টাও করেন। কিন্তু পুলিশ প্রকৃত ঘটনা জেনে ফিরে যায়। অবস্থা বেগতিক দেখে তরিকুল ইসলাম বকুলকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।

মামলায় জেলার ছাড়াও আসামী করা হয়েছে, প্রধান কারারক্ষী মফিজ(৪৫), সহকারী প্রধান কারারক্ষী কলিম উদ্দীন(৫০), সিআইডি কারারক্ষী সাজেদুল(২৫), কারারক্ষী আতাউর রহমান(৪৫), কারারক্ষী সাইদুল(২৫) ও কারারক্ষী  আকতার(৩৮) কে।

নুরুল ইসলাম সেন্টু জানান, বাদীর আরজি আমলে দিয়ে জেল সুপারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছে আদালত।

এদিকে ভুক্তভোগি বাদী, মহিলা কারারক্ষীর স্বামী তরিকুল ইসলাম বকুল জানান, আমার বাচ্চার জন্য কারাগারের ষ্টৌরে আইসক্রীম কিনতে গেলে অতিরিক্ত মূল্য নিলে প্রতিবাদ করি। সেখানে দায়ীত্বরত কয়েক জন কারারক্ষী আমাকে গালাগালি শুরু করে। আমি বলি আমার স্ত্রীও তো কারারক্ষী আমার কাছে বেশী নিবেন কেন?এর জের ধরে, কয়েক ঘন্টা পর প্রতিদিনের মত কারাগারের পাশে আমার বাসভবন যেতে গেলে, জেলার শরীফুল ইসলাম, প্রধান কারারক্ষী মফিজ, সহকারী প্রধান কারারক্ষী কলিম উদ্দীন সহ ৭ কারারক্ষী গুন্ডামী ষ্টাইলে আমার গতিরোধ করে। এবং বেধড়ক পেটাতে পেটাতে হাতকড়া দিয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ প্রকৃত ঘটনা শুনে ফিরে যায়।

এ ব্যাপারে জেলার শরীফুল ইসলামকে প্রশ্ন করা হলে তিনি,  বলেন, তরিকুল  ইসলাম বকুল একজন মাদকাসক্ত। সে প্রায় সময় দর্শনার্থী আসামীদের সুবিধা আদায় করে দিবে বলে টাকা নেয়। তিনি ওইদিন কারাগারের সামনে চিৎকার চেচামেচি করছিলেন। আমি সহ অন্য কারারক্ষীরা গিয়ে প্রথমে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করলে তিনিই আমাদের উপর চড়াও হন। পরে বকুল আমাদের কাছে ভুল স্বীকার করেন। তাকে নির্যাতনের অভিযোগ মোটেও সত্য নয়।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares
error: Content is protected !!