| |

পটিয়ায় পাহাড়ে স্বপ্ন নগর স্কুলে ১০৫ শিক্ষার্থীদের মাঝে আলো ছড়াচ্ছে ৯

বাংলাদেশের জনপ্রিয় ও সর্বশেষ খবর পেতে আ্যপসটি ইনস্টল করুন

প্রকাশিতঃ 1:00 am | March 13, 2018

পটিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে সেলিম চৌধুরী : চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের লর্ড শ্রীমাই পাহাড়ে স্বপ্ন নগর স্কুলে ১০৫ জন শিক্ষার্থীদের মাঝে আলো ছড়াচ্ছে ৯ জন শিক্ষক। কাঞ্চননগর চা-বাগান সংলগ্নে সুন্দর মনোরম পরিবেশে প্রকৃতির ছোঁয়ায় অনাবিল এ স্বপ্ন নগর স্কুল ১০৫ জন শিক্ষার্থী তাদের ভবিষ্যৎ জীবনের লেখাপড়ার স্থান হওয়ায় উক্ত এলাকায় ৪৭ পরিবারের মধ্যে আনন্দের আত্মহীন। স্বপ্ন নগর এলাকায় ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত স্বপ্ননগর বিদ্যালয়ের গত জানুয়ারী মাসে ১৩ বছর পুর্তি উপলক্ষে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে আসে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ¦ ইদ্রিস মিয়া কর্তৃক দেওয়া টিউবওয়েল নষ্ট ও অকেঁজু হয়ে পড়ে আছে। এছাড়াও পাহাড়বেষ্টিত এলাকা হওয়ায় উক্ত স্কুলে এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ পায়নি। এতে করে স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে পানি-বিদ্যুৎ সমস্যায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্বপ্ন নগর স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুজা আল মামুন, শিক্ষক যথাক্রমে সোমেন ঘোষ, সাগরিকা দাশ, কাউসার বেগম, নাছিমা আকতার, শামীমা আরা, প্রমা দাশ, আইরিন সুলতানা, লিন্ডা লিমেজ গোমেজ সহ এ ৯ জন শিক্ষক কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ১ম শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত ১০৫ জন শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে। স্কুলের সাফল্য রয়েছে অনেক।

গত ১৩ বছরে এ স্কুল থেকে পরীক্ষা দিয়ে ১ জন শিক্ষার্থীরও ফলাফল খারাপ হয়নি। বর্তমান সরকার শিক্ষা বান্ধব সরকার হলেও এখনো পর্যন্ত স্বপ নগর স্কুলটি সরকারিকরণ করা হয়নি। ২০০৪ সালে স্থানীয় ২ জন সমাজকর্মীর উদ্যোক্তায় এ স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত করেন। স্বপ্ন নগর স্কুলে পাঠদান ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ পাঠ্যবই থেকে শিক্ষাদান করে যাচ্ছেন শিক্ষকরা। গত কয়েক বছর ধরে পটিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোতাহার বিল্লাহ স্কুলটি এক বারের জন্যও দেখতে যায়নি বলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ। তবে পানি সমস্যা নিয়ে কচুয়াই ইউপি চেয়ারম্যান ইনজামুল হক জসিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করবেন বলে জানান। সাবেক ইউপি সদস্য সামশুল আলম সংক্ষিপ্ত কবিতায় উল্লেখ করেছেন কুপির আলোয় আধার তাড়ায়, বিজলী বাতি জ¦লেনা, মুটের চেয়ে ভোট কম তাই নেতা কিছু বলেনা।

এব্যাপারে কাঞ্চানাবাদ এলাকার সমাজসেবক মনির সওদাগর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, এই পাহাড়ী এলাকায় এ ধরনের পরিবেশে অসাধারণ কাজ করে যাচ্ছেন এক ঝাঁক যুবক। যে সময় মানুষ টাকার পিছনে ছুটছে, সে সময় তারা নিজের অর্থ দিয়ে এ এলাকার অবহেলিত জনগোষ্টির মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। তা অবশ্যই প্রশংসনীয়।

তাদের শিক্ষা পদ্ধতি জীবনের দিক নির্দেশনা সমাজের পিছিয়ে পড়া এ জনগোষ্ঠির মাঝে এ ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। মুক্তিযোদ্ধা রাইসুল হক বাহার বলেন, দুর্গম প্রত্যন্ত অঞ্চলে সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত উপেক্ষিত পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোর আগামী প্রজন্মকে জীবনের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে তারা দু:সাহসিক কাজ করে যাচ্ছেন। এক্ষেত্রে তারা সফল হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম বলেন, তারা শিক্ষার অনেক কাজ করে গেছেন। তবে এ ধরনের দু:সাহসিক কাজ এবং শতভাগ সফল হওয়া খুবই প্রশংসনীয়। তাদের এ কর্মকান্ডকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সাহস যোগাচ্ছেন যারা তাদেরকেও ধন্যবাদ জানায়। এব্যাপারে স্বপ্ন নগর স্কুলের শিক্ষক/শিক্ষার্থী ও অভিভাবক এবং স্থানীয় জন সাধারণ পটিয়ার সাংসদ আলহাজ¦ সামশুল হক চৌধুরীর কাছে স্কুলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন সহ নানান সমস্যা সমাধানের জোর দাবি জানান।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares
error: Content is protected !!