| |

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্থানে বখাটেদের উৎপাতে অতিষ্ট স্কুল-কলেজগামী ছাত্রীরা–

প্রকাশিতঃ 12:49 am | March 13, 2018

বিশেষ প্রতিনিধি : চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্থানে বখাটেদের উৎপাত আবারও শুরু হয়েছে। এতে বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে স্কুল-কলেজগামী ছাত্রীদের স্বাভাবিক জীবন। অন্যদিকে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা আর অজানা আতংকে দিন কাটছে অভিভাকদের। প্রকাশ্যে স্কুলগামী ছাত্রীদের শরীরে হাত দিতেও পিছপা হচ্ছে না বখাটেরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলামের ইভটিজিং এর ব্যাপারে কঠোর ভুমিকায় বিগত স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন বখাটেদের প্রতিরোধে অভিযানের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তা দেখা যায়নি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের ক্লাব সুপার মার্কেটের সামনে, গাবতলা মোড়, হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে, সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখার সামনের রাস্তা ও নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের পশ্চিম পার্শ্বের কোচিং সেন্টারের আশ পাশের রাস্তায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বখাটেরা। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ক্লাব সুপুর মার্কেট, গাবতলা মোড়ের আশপাশে ও সোনালী ব্যাংক রোডে এবং বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কোচিং সেন্টারের সামনের রাস্তায় মোটরসাইকেলে দু’তিন জন করে উঠে বেপরোয়া গতিতে চালাচ্ছে মোটরসাইকেল। জানা গেছে, পৌনে ১২টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শাখার মেয়েদের ছুটি হয় এবং আরেক শাখার মেয়েরা স্কুলে যায়। ওই সময় পিঠে ব্যাগ ঝুলিয়ে দলে দলে বখাটেরা স্কুল গেটের আশপাশে অবস্থান নেয়, কেউ আবার ওই রাস্তা দিয়ে বারবার আসা যাওয়া করে।

গতকাল শনিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে স্কুল ছুটির সময় মুক্ত মহাদলের সামনে কয়েকটি মোটরসাইকেলে বখাটেদের বসে থেকে মেয়েদের উত্যক্ত করতে দেখা গেছে। কেউ কেউ আবার স্কুল শুরু ও ছুটির সময় মুখে রুমাল বেধে সাইকেল ও মোটরসাইকেল নিয়ে বখাটেপনা করছে। এছাড়া গত ৭ মার্চ দুপুর পৌনে ১২টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ছুটির শেষে মেয়েরা বাড়ি যাওয়ার সময় ক্লাব সুপার মার্কেটের সামনে মোটরসাইকেলে থাকা তিন বখাটে মেয়েদের শরীরে হাত দেয়। এ দৃশ্য দেখে সেখানে থাকা সাংবাদিকরা ধর ধর বলে চিৎকার করলে তারা মোটরসাইকেল চালিয়ে পালিয়ে যায়।

এছাড়াও কোচিং শেষে মেয়েরা অটোযোগে বাড়ি ফেরার সময় বিভিন্নভাবে মেয়েদের উত্যক্ত করে বখাটেরা। উত্যক্তের এক পর্যায়ে গত কয়েক দিন আগে মোঃ সারফারাজ খাঁন রাফী নামে এক বখাটে তার মোবাইল নম্বর ০১৭৯০৫১৩৩২১ লিখে একটি চিঠি ছুড়ে মারে ছাত্রীবোঝায় একটি অটোতে। ওই চিঠি পেয়ে একটি মেয়ে তার বাড়ি গিয়ে অভিভাবককে দেয়। পরে চিঠি নিয়ে একজন সাংবাদিককে সাথে নিয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে যায় ওই অভিভাবক। বিষয়টি জানার পর কর্তব্যরত কর্মকর্তা থানায় লিখিত অভিযোগ করে থানা পুলিশের সহযোগিতা নেয়ার পরামর্শ দেন।

কিন্তু আইনী প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং পুলিশের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরের বিড়ম্বনার ভয়ে আর থানায় যাওয়া হয়নি ওই অভিভাবকের। এদিকে পুলিশের নীরবতার কারণে বখাটেদেও উৎপাত নিত্য দিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ৩১ জানুয়ারী পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে জেলা পুলিশের ভুমিকা’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকরা বখাটেদের উৎপাতের বিষয়টি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানকে জানালে তিনি পহেলা মার্চ থেকে ওইসব এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন।

কিন্তু সেটা এখন পর্যন্ত কথার কথায় রয়ে গেছে। আর বখাটেদেও তৎপরতার কারণে মেয়েদের স্কুল, কলেজ ও কোচিংয়ে পাঠিয়ে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা আর অজানা আতংকে থাকছেন মেয়েদের অভিভাবকরা। উল্লেখ্য, এর আগে কয়েকজন সংবাদকর্মী দল বেধে স্কুল গেটে বখাটেদের তৎপরতা রোধে উদ্যোগ নিলে কিছুদিন বখাটেদেও তৎপরতা বন্ধ থাকে। কিন্তু এখন আবারও বখাটেদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।