| |

হালুয়াঘাটে গরুচুর চক্রের মূল হোতা ঝর্ণা আটকের পর উপজেলায় ঘটেনি কোন গরু চুরির ঘটনা

প্রকাশিতঃ 9:04 pm | March 05, 2018

জোটন চন্দ্র ঘোষ : ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে গরুচুর চক্রের মূল হোতা ঝর্ণা আটকের সাত মাস অতিবাহিত হওয়ার পর অধ্যবদি পর্যন্ত উপজেলায় ঘটেনি কোন গরু চুরির ঘটনা। স্বস্তিতে রয়েছেন কৃষকসহ সর্বসাধারণ।

জানা যায়, গত বছরের ১২ আগষ্ট সন্ধায় ঝর্নার নিজ বাড়ি থেকে অভিযান চালিয়ে চুরাই গরুসহ ঝর্ণাকে আটক করে হালুয়াঘাট থানা পুলিশ। পরবর্তিত্বে চুরি যাওয়া গরুর মালিকগণ বাদী হয়ে পৃথক পৃথক ভাবে ঝর্ণা সহ উপজেলার ধারা ইউনিয়নের করুয়াপাড়া গ্রামের কামরুজ্জামান (৩৭),ধুরাইল ইউনিয়নের ধরাবন্নি গ্রামের কফিল উদ্দিন(৪০), আয়েশা বেগম (৩৫), হাকিম (৫৫), ও ফুলপুর উপজেলার ধনারভিটা গ্রামের সোহেল (২৫), জহুরুল (৩০), রাকিব (২৩), রোবেল (২৭), নজরুল (৪৫), জাকারিয়া (২৫) এর নামে হালুয়াঘাট থানায় গত বছরের ১২ ও ১৪ আগষ্ট ইং তারিখে যথাক্রমে মামলা নং ৮,৯,১০, ধারা ৪৫৭/৩৮০/৪১১ দায়ের করেন। এ ছাড়্ওা ১৬ আগষ্ট সিংহেশ^র ইউনিয়নের পুরাপুটিয়া গ্রামের আবছর আলীর পুত্র রফিক বাদী হয়ে ফুলপুর থানায় ঝর্ণাসহ ১৩ জনকে বিবাদী করে আরো একটি মামলা দায়ের করে। যার নং- ১৫।

অতপর ঝর্ণার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত গরুচুরি মামলার তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ছানোয়ার হোসেন,এসআই দেলোয়ার হোসেন ও এসআই প্রদীপ কুমার রায় আদালতে রিমান্ড আবেদনের প্রেÿিতে গত বছরের ২১ আগষ্ট ময়মনসিংহ বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্টেট্র ৫নং আমলী আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্চুর করেন। ২৩ আগষ্ট অপরাহ্নে হালুয়াঘাট থানা পুলিশ ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঝর্ণাকে থানায় নিয়ে আসেন। ঝর্ণা থানা হাজতে থাকা অবস্থায় পুলিশকে জানায়, গরু গুলির মালিক সে নয়, উদ্বারকৃত গরু গুলি তার সহযোগীদের দ্বারা চুরি করানো ছিল।

এ ঘটনায় হালুয়াঘাট থানার সংষিøষ্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তাগণ যথাক্রমে গত বছরের ১৪ অক্টোবর ১৫৮,১৫৯,১৬২ নং অভিযোগ পত্র আদালতে দাখিল করেন। পাশাপাশি ফুলপুর থানায় দায়েরকৃত মামলাটি গত বছরের ১৯ অক্টোবর ২১১(৯) নং অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। বর্তমানে মামলা গুলি বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

এর পূর্বে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর বিজ্ঞ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পায় ঝর্ণা বেগম। পরে ২১ ডিসেম্বর ধুরাইল ইউপি চেয়ারম্যান ওয়ারেছ উদ্দিন সুমন ও হালুয়াঘাট থানার ওসি কামরুল ইসলাম মিঞাসহ ৬ জনকে আসামী করে আদালতে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদাদাবী ও তিন দিন থানা হাজতে আটক রেখে উলঙ্গ করে ইউপি চেয়ারম্যান ও ওসির বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেন। ২৭ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ ৫নং আমলী আদালতের বিচারক হাফিজ আল আসাদ অভিযোগটি আমলে নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারকে থানার ওসিসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেন।

হালুয়াঘাট থানা ও উপজেলার বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়, গরুচুর চক্রের মূলহোতা ঝর্ণাসহ একাদিক সদস্য আটকের পর অধ্যবদি পর্যন্ত অত্র উপজেলায় কোন গরু চুরির ঘটনা ঘটেনি। শান্তিতে বসবাস করছেন কৃষক সহ জনসাধারণ।

এ বিষয়ে হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম মিঞা বলেন, ঝর্ণাসহ একাদিক গরু চুর চক্রের সদস্য আটকের পর অধ্যবদি পর্যন্ত অত্র উপজেলায় কোন গরু চুরির ঘটনা ঘটেনি। ঝর্ণার সহ চক্রের অন্যান্য সদস্যদের নামে আদালতে অভিযোগ পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। মামলা গুলি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানান।

উল্লেখ যে, ধুরাইল ইউপি চেয়ারম্যান ওয়ারেছ উদ্দিন সুমন ও হালুয়াঘাট থানার ওসি কামরুল ইসলাম মিঞাসহ ৬ জনের নামে ঝর্ণার দায়েরকৃত ষড়যন্ত্র মূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবী নিয়ে ২ জানুয়ারি উপজেলা আওয়ামীলীগ ও ধুরাইল ইউনিয়নবাসীসহ সর্বস্তরের জনগণ মানববন্ধনসহ বিক্ষোভ মিছিল করেন।

(গরুচুর চক্রের মূল হোতা ঝর্ণা আটকের সংগৃহীত ছবি)


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।