| |

মাহবুব পলাশ এর ‘দুঃখের ফেরিওয়ালা’ দুই বাংলায় সফলভাবে সমাদৃত

প্রকাশিতঃ 11:34 pm | February 12, 2018

সানোয়ারুল ইসলমা রনি, মীরসরাই চট্টগ্রাম : গত ৫ ফেব্রুয়ারী কলকাতায় ও ৭ ফেব্রুয়ারী ঢাকায় মোড়ক উম্মোচিত হলো কবি ও সাংবাদিক মাহবুব পলাশ এর ৫ম কাব্যগ্রন্থ ‘দুঃখের ফেরিওয়ালা’। ৭ ফেব্রুয়ারী, বুধবার ঢাকায় বাংলা একাডেমীর বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানস্থ মোড়ক উম্মোচন মঞ্চে বিকাল ৫টায় মোড়ক উম্মোচন করেন দেশের বরেণ্য শিশু সাহিত্যিক রফিকুল হক দাদু ভাই। এসময় তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন মাহবুব পলাশ’কে নিয়ে কবি নির্মলেন্দু গুণ ও প্রয়াত কবি সমূদ্র গুপ্ত যে উক্তি করেছেন তাতেই কবির ভাবের গভীরতা এবং তীক্ষè অন্তর্দৃষ্টি প্রতীয়মান।

গ্রন্থায়িত কবিতায় বিরহের আধিক্যতা লক্ষ্যনীয়। এছাড়া শব্দের গাঁথুনিতে কষ্ট ও দুঃখের সরব প্রস্ফুটন পাঠকদের ভিন্নতর বিরহ স্বাধ দিতে সক্ষম। তিনি বলেন এই সংবাদকর্মী নিজেকে দুঃখের ফেরিওয়ালা হিসেবে উপস্থাপনে বইয়ের নামকরণ যথার্থ। তবে গ্রন্থ এবং কবিতার মান অনুযায়ী প্রচ্ছদ দূর্বলতা ও মূদ্রণ ক্রুটির কথা ও অনুযোগ করেন তিনি। কবি ও অভিনেতা সোহেল রশিদ এর সঞ্চালনায় এসময় আরো বক্তব্য রাখেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দ সৈনিক মনোরঞ্জন ঘোষাল, মহাকবি কাইয়ুম নিজামী, দৈনিক যুগান্তরের সহ সম্পাদক হিমেল চৌধুরী, দৈনিক ভোরের কাগজ এর সম্পাদকীয় সহকারি ছালেক নাছির উদ্দিন। অনুভূতি ব্যক্ত করেন কবি মাহবুব পলাশ। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন গ্রন্থের প্রকাশক শিল্পী ও সাংবাদিক রণজিত ধর, কবি ফারজানা ইসলাম, কবি ও সাংবাদিক রাজিব মজুমদার, নাট্যাভিনেতা জুয়েল কাজল, সাংবাদিক আমিনুল হক, দিদারুল আলম, জান্নাতুল ফেরদৌস ফেন্সী, শরিফ উদ্দিন শিবলু, আব্দুল মান্নান রানা, সানোয়ার ইসলাম রনি, তৌহিদুল ইসলাম, মিসেস কাজল, মাহফুজা খান সোমা, সুমি, বিউটি প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে এসে যোগ দেন মীরসরাইয়ের ইতিহাস ও সংস্কৃতি গ্রন্থের প্রণেতা গবেষক আহমদ মমতাজ।

কবি মাহবুব পলাশ তার অনুভূতি ব্যক্তকালে বলেন কলকাতায় দুঃখের ফেরিওয়ালা’র আনন্দ মুখর মোড়ক উম্মোচন হবার পর ঢাকায় ও এতোটা সমৃদ্ধ মোড়ক উম্মোচনে আমি আবিভূত। বিশেষ করে সমাদৃত গুণীজনগনের দোয়া ও আশীর্বাদ নিয়ে কবিতার সাথে আমার এই যাত্রা যেন নিজের আত্মজ চেতনায় নতুন দীগন্তের উম্মোচন ঘটালো। সকলের ভালবাসা ও স্নেহের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান।

কলকাতা বইমেলায় ঃ এপার – ওপার বাংলার কানেকটিভিটি পয়েন্ট মীরসরাই হবার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করলেন ওপার- বাংলার অগনিত কবি-লেখক ও গুণীজন। ৫ ফেব্রুয়ারী বিকাল ৫টায় কলকাতা বইমেলার লিটল ম্যাগাজিন প্যাভিলিয়নে উক্ত দুঃখের ফেরিওয়ালার মোড়ক উম্মোচন করলেন পশ্চিম বঙ্গের শীর্ষ স্থানীয় প্রবীণ কবি ও ভারতবর্ষের অন্যতম গুণীজন কবি কৃষ্ণা বসু ।

উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলন এর সম্পাদক নির্মল ব্রক্ষ্রচারী, একালের ধূমকেতু সম্পাদক পরিমল রায়, স্লোক সম্পাদক শ্রী মনোরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়, চিত্র শিল্পী পার্থপ্রতীম বিশ্বাস, রবীন্দ্র গবেষক ড. মৌ ভট্টাচার্য্য, লেখক শ্রী মুকুল বন্দোপাধ্যায়, কবি সুব্রত দেব, কবি ফুল্লুরা ধর, কবি দেবীস্মিতা দেব, লেখক দৃপ্ত বর্মণ রায় সহ অগনিত কবি লেখক ও গুণীজন। খবরিকার পক্ষ থেকে বাংলা সাহিত্য সেবায় অবদানের জন্য স্লোক সম্পাদক শ্রী মনোরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়, কবি দেবীস্মিতা দেব ও একালের ধূমকেতু সম্পাদক পরিমল রায়কে খবরিকা সম্মাননা প্রদান করেন কবি।

এরপর কলকাতার স্বনামধন্য লিটল ম্যাগাজিন স্লোক সম্পাদক ও একালের ধূমকেতু সম্পাদক পরম ভালবাসায় কবি মাহবুব পলাশ’কে প্রদান করেন পৃথক পৃথক সম্মাননা ক্রেষ্ট। আবার অনেকে পৃথক পৃথক ভাবে বিভিন্ন উপহার ও ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানালেন কবিকে। সবশেষে কবি দেবীস্মিতা দেব ও তাঁর লেখক বর দৃপ্ত বর্মন রায় কবির সৌজন্যে রাতের খাবার পার্টি করলেন সল্ট লেক এর ফেবারস অফ বেঙ্গল রেষ্টুরেন্টে।

সব মিলিয়ে কলকাতা বইমেলায় দুঃখের ফেরিওয়ালার মোড়ক উম্মোচনকালে কবির কলকাতা সফর অনেকটাই সফল ও সার্থক। কারন এসময় কলকাতার অন্তঃত অর্ধশতাধিক শীর্ষস্থানীয় কবি লেখক ও গুণীজন বাংলাদেশের মীরসরাইতে বিভিন্ন শিল্প সাহিত্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। যার মধ্য দিয়ে উম্মোচিত হলো এপার বাংলা ওপার বাংলার দৃষ্টান্ত মূলক কানেকটিভিটির নব পথ পরিক্রমা।

উল্লেখ্য যে বইটি পাওয়া যাচ্ছে ঢাকার তৃপ্তি প্রকাশ কুঠি ( ষ্টল নং ১২৭/১২৮), কলকাতা : অরণ্যময় প্রকাশনী ( ৩৭৫ নং ষ্টল) ও লিটল ম্যাগাজিন প্যাভিলিয়ন এর একালের ধূমকেতু ( ১৬৬ নং টেবিল)। এছাড়া চট্টগ্রামের বাতিঘর সহ মীরসরাইয়ের বিভিন্ন লাইব্রেরীতে ও পাওয়া যাচ্ছে বইটি।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares