| |

গুইমারায় জ্বলছে ভাটা, পুড়ছে বন, নিরব প্রশাসন

প্রকাশিতঃ 3:19 pm | February 06, 2018

আব্দুর রহিম,জেলা প্রতিনিধি খাগড়াছড়ি : পার্বত্য খাগড়াছড়ির গুইমারায় প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে, সরকারের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে,প্রকাশ্য দিবালোকে পোড়ানো হচ্ছে লক্ষ লক্ষ ঘনফুট গাছ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় গুইমারা আমতলীপাড়া থেকে ভিতরে SBM ও 4 STAR নামে দুইটি ভাটা ও বাইল্লাছড়ি নামক জায়গায় রয়েছে আরও একটি ভাটা যেখানে দেদারছে পোড়ানো হচ্ছে পাহাড়ি কাঠ। যার ফলে উজাড় হয়ে পড়ছে বন। ধ্বংশ হচ্ছে জীব বৈচিত্র।

ঐ এলাকার ফসলি জমীগুলো থেকে ইট তৈরীর জন্য মাটি নেয়ার ফলে জমীগুলো এখন উৎপাদন ক্ষমতা হারিয়ে ধ্বংশস্তুপে পরিনত হয়েছে। এক সময় যে জমীগুলোতে সবুজ ডানায় ভরকরে সোনালা ফসল দোল খেত সে জমীগুলো আজ মরে মরুভুমিতে রুপান্তরিত হয়েছে। ভাটার মরণচুল্লী থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ার ফলে একদিকে যেমনি দূষিত হচ্ছে বাতাস, অন্যদিকে আক্রান্ত হচ্ছে স্থানীয় ফলদবৃক্ষ, জলাশয় ও প্রাণীকুল।

রামগড় উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা নাছির উদ্দিন চৌধুরী ইটভাটা থেকে নির্গত কালোধোঁয়ার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে বলেন, এটি থেতে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড বাতাস দূষনের পাশাপাশি পরিবেশও দূষিত করে তোলে, যার ফলে পুকুরের পানি দূষিত হয়ে যায় ফলে ভাটার আশপাসের কয়েক কি.মি.পর্যন্ত পুকুর বা জলাশয়ে আসানুরুপ মাছের উৎপাদন হয়না। ফলদ বৃক্ষ আম, কাঁঠাল,লিচু,পেয়ারাসহ সব ধরনের গাছ ফুলশুন্যহয়ে উৎপাদন ক্ষমতা হারায়। ব্যাপকহারে গাছ পোড়ানোর ফলে, বন্যপ্রাণির আবাসস্থল ধ্বংশের পাশাপাশি ধ্বংশ হচ্ছে জীব বৈচিত্র। যারফলে বিলুপ্ত হয়ে পড়ছে প্রাণিকূল। আবার ইট তৈরিতে ফসলি জমির উর্বরস্তর নিয়ে যাওয়াতে জমিগুলো উর্বরতা হারানোর পাশাপাশি উৎপাদন ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলছে।

ইটভাটা গুলোতে অবাদে গাছ পোঁড়ানো সম্পর্কে জালিয়াপাড়া রেঞ্জ অফিসার মোশারফ হোসেন বলেন, ভাটাগুলোতে গিয়ে অভিযান চালিয়ে আটক করার ক্ষমতা আমাদের নেই তবে পোড়ানোর উদ্দেশ্যে গাছ পরিবহনের সময় রাস্তায় আটক করার ক্ষমতা আমাদের আছে। এবং আমাদের এই তৎপরতা সবসময়ই বিদ্যমান রয়েছে। তাছাড়া ভাটাগুলোতে অবৈধভাবে কাঠ পোড়ানো ঠেকানোর জন্য আমরা ইতিমধ্যে জেলাপ্রশাসক মহোদয়কে অবহিত করেছি।

খাগড়াছড়িতে বিদ্যমান ইটভাটা গুলোতে অবৈধভাবে কাঠ পোড়ানো সম্পর্কে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক রাশেদুল ইসলাম বলেন, প্রশাসন সবসময় সক্রীয়, ভাটাগুলোর অপতৎপরতা বন্ধের জন্য আমাদের অফিযান অব্যহত রয়েছে এবং পরিবেশ কৃষি ও জীববৈচিত্র রক্ষার্থে সবসময়ই আমাদের অভিযান অব্যহত থাকবে।

ইট ভাটাগুলোতে অবাদে কাঠ পোঁড়ানো,ফসলি জমির মাটি নেয়া, পরিবেশ দূষন এ সম্পর্কে জানতে চাইলে গুইমারা উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, অচিরেই তদন্ত সাপেক্ষে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে আমরা এ ব্যাপারে ব্যাবস্থা নেবো।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares
error: Content is protected !!