| |

সোনামসজিদ স্থল বন্দরে আমদানী-রপ্তানী ৬ ঘন্টা বন্ধ থাকার পর ফের শুরু

প্রকাশিতঃ 3:12 pm | February 06, 2018

ফয়সাল আজম অপু , বিশেষ প্রতিনিধিঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থল বন্দর দিয়ে অবশেষে ৬ ঘন্টা বিরতির পর সোমবার বেলা সাড়ে ৩টা থেকে আবারো পাথর ছাড়া অন্যান্য সকল পন্য রপ্তানী শুরু করেছে ভারতের মহদীপুর এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশন।

এর আগে রবিবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর ও মহদীপুর স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানীকারকদের পাথর আমদানির ক্ষেত্রে জটিলতার সমস্যা সমাধান না হওয়ায় সোমবার থেকে মহদীপুর স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে মহদীপুর এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশন।

রোববার ভারতের মহদীপুর এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শ্রী নিক্ষিল চন্দ্র ঘোষের স্বাক্ষরিত একটি পত্রে সোনামসজিদ স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপকে সোমবার থেকে মহদীপুর স্থলবন্দরে সকল প্রকার আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছেন। ফলে সকাল থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ভারতের মহদীপুর স্থলবন্দর থেকে কোন ধরণের পণ্য বোঝাই ট্রাক প্রবেশ করেনি।

এ ব্যাপারে ভারতীয় মহদীপুর এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শ্রী নিক্ষিল চন্দ্র ঘোষ সহ ভারতীয় সিএন্ড এফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের বরাত দিয়ে বাংলাদেশের সোনামসজিদ স্থল বন্দর সি এ্যান্ড এফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হারুন আর রশিদ জানান, মোহদীপুর বন্দরে আকশ্মিক ধর্মঘট ডাকার ফলে বিভিন্ন কাচামাল নিয়ে বিপাকে পড়ে তারা। অনেকে এ ঘটনাকে অনাকাঙ্খিত মনে করে পাথর ছাড়া অন্যান্য পন্য রপ্তানীর পক্ষে মত দিলে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে পুনরায় রপ্তানী শুরু করেন।

তিনি আরও জানান, পাথর নিয়ে যে জটিলতা আছে তা উভয়দেশের ব্যবসায়ীরা আলোচনা করে সিন্ধান্ত নেয়ার আগ পর্যন্ত শুধু পাথর রপ্তানী বন্ধ থাকবে। এদিকে ভারতের মহদীপুর বন্দরের ট্রাক পার্কিং কেন্দ্রে গত ২১ জানুয়ারী থেকে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার ভারতীয় পাথরভর্তি ট্রাক আটকা পড়ে রয়েছে বলে বিভিন্ন মাধ্যম নিশ্চিত করেছে।

এদিকে আমদানী-রপ্তানী জটিলতা ও রফতানীকারকদের রপ্তানী বন্ধের ঘোষনা করে ৬ ঘন্টা বন্ধ রাখার পর পূনরায় চালুসহ বিভ্রান্ত ও ধুম্রজাল সৃস্টি হওয়ায় মঙ্গলবার সকালে সোনামসজিদ স্থলবন্দর আমদানিকারক গ্রুপ সভা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করে প্রেসব্রিফিংয়ে মঙ্গলবার বিকেলে জানাবেন বলে জানান, সোনামসজিদ স্থলবন্দর আমদানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুর রহমান বাবু।

তিনি আরো জানান, ভারতের রপ্তানীকারকরা সোনামসজিদ স্থলবন্দরে সব ধরনের পন্য রপ্তানী সোমবার থেকে বন্ধের ঘোষনা দেয় এবং সোমবার সকাল থেকে তারা কোন পন্য রপ্তানী করেনি, তবে দুপুর তিনটার পর অপ্রত্যাশিতভাবে রপ্তানীকারকরা পেঁয়াজ, মরিচ ও চাল রপ্তানী করতে শুরু করলে বিকেল ৪ টা (এ খবর লেখার সময় পর্যন্ত ) পর্যন্ত পাথর ছাড়া বেশ কিছু পন্যবাহী ট্রাক সোনামসজিদ স্থরবন্দরে রপ্তানী করায় প্রবেশ করে।

তিনি আরও জানান সোমবার ভারতের রপ্তানীকারকররা ভারতের মোহদিপুর স্থলবন্দরে দুইভাগে বিভক্ত হয়ে এক পক্ষ অন্য সব পন্য রপ্তানী শুরুর প্রস্তাব দিয়ে সোমবার দুপুর থেকে অন্য সব পন্য রফতানী শুরু করায় সোমবার দুপুর ৩ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত প্রায় ৫০ টি পন্যবাহী ট্রাক ভারত থেকে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে প্রবেশ করে।

গত ১৫ জানুয়ারী আমদানীকারকরা রফতানীকারকদের চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেয় যে পাথর আমদানীর ক্ষেত্রে অগ্রিম রাজস্ব প্রদান বাতিল,অহেতুকভাবে দাম বাড়ানো বন্ধ, আগে প্রতি সিএফটি পাথরের জন্য কথিত জিএসটি বাবদ কোন টাকা প্রদান না করা বা অযাচিত ২ রূপী কমিশন বাতিল (পরে ২ রূপীর স্থলে ৪ রূপী করা হয় ), পাথরের ওজন মেট্রিক টনের স্থলে সিএফটিতে করার জন্য। এসব দাবী না মানা হলে পাথর আমদানী ২১ জানুয়ারী থেকে বন্ধের ঘোষনা দেন আমদানীকারকরা।

এরপর থেকে বন্ধ ছিল সোনামসজিদ স্থলবন্দরে পাথর আমদানী। পদ্মা সেতু ও রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে পাথরের ব্যাপক চাহিদার কারণে ভারতীয় পাথর রফতানিকারকরা এটিকে পুঁজি করে ফায়দা লুটছে বলে অভিযোগ ছিল আমদানিকারকদের।

আমদানীকারকরা জানান, রফতানিকারকরা পাথর আমদানীর ক্ষেত্রে অগ্রিম রাজস্ব প্রদান বহাল, অহেতুকভাবে দাম বাড়ানো, কথিত জিএসটি বাবদ অযাচিত ২ রূপী কমিশন আদায় (পরে ২ রূপীর স্থলে ৪ রূপী করা হয়), পাথরের ওজন সিএফটি‘র পরিবর্তে মেট্রিক টনে প্রদান, পাথরে আবর্জনা মিশিয়ে ওজন বাড়ানো ও দফায় দপায় দাম বাড়ানোসহ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও জিম্মি করে বাংলাদেশী আমদানিকারকদের কাছ থেকে অধিক মুনাফা আদায় করায় মারাত্তক ক্ষতির মধ্যে পড়ে আমদানিকারকরা।

ভারতের মোহদিপুর স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট ওয়েলফেয়ার এ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি শ্রী দিপক সরকার ও রফতানীকারক প্রতিনিধি শ্রী বিজয় কুমার সাহা জানান, সোনামসজিদ স্থলবন্দরে প্রবেশের জন্য আমদানীকারকরা ২১ জানুয়ারী থেকে কোন পাথরের ট্রাক না নেয়ায় অন্তত ৩ হাজার পাথরবাহী ট্রাক মোহদিপুর থেকে মালদাহ‘র স্বশানী পর্যন্ত আটকে আছে।

গত ২১ জানুয়ারী থেকে ভারত থেকে কোন পাথর বোঝাই ট্রাক সোনামসজিদ স্থলবন্দরে প্রবেশ করেনি বলে স্বীকার করেন সোনামসজিদ স্থলবন্দর কাস্টমস্‌ সহকারী কমিশনার সোলাইমান হোসেন।

প্রসঙ্গত, গত ২১ জানুয়ারী থেকে সোনামসজিদ স্থলবন্দরের পাথর আমদানিকারকেরা অগ্রিম রাজস্ব পরিশোধ করে পাথর আমদানি করবেনা বলে মহদীপুর স্থলবন্দর পাথর রপ্তানিকারকদের নিকট জানিয়ে দেন।

এছাড়াও ভারতীয় পাথর রপ্তানিকারকদের জিএসপি নামে রশিদ ছাড়াই অতিরিক্ত চাঁদা না দেয়ারও সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয় সোনামসজিদ স্থলবন্দর পাথর আমদানিকারকেরা। এতে করে উভয় দেশের আমদানি-রপ্তানিকারকদের মধ্যে পাথর আমদানি-রপ্তানি বিষয়ক জটিলতা দেখা দেয়। ফলে ১৫ দিন থেকে সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে পাথর আমদানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

এর আগে এ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আসা পাথরের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি, ভারতীয় ট্রাক পাকুড় থেকে সরাসরি বাংলাদেশে ঢুকতে না দিয়ে মহদীপুরে ডাম্পিং করা, নিম্নমানের পাথর, আবর্জনা ও মাটি মেশানো, ইচ্ছাকৃত যানজট ও কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টিসহ দেশীয় আমদানিকারকদের বিপাকে ফেলে ফায়দা নেয়ায় আমদানিকারকরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ায় ২০১৬ সালে ৬ ফেব্রুয়ারী থেকে ৫ দিন পাথর আমদানি বন্ধ রাখে দেশীয় আমদানিকারকরা।

তবে সেসময় আমদানীকারকদের অধিকাংশ দাবী মেনে পাথর আমদানী শুরু করার পর আবারো এসব দাবীতে পাথর রপ্তানী বন্ধ করে দেয় ভারতীয় রপ্তানীকারকরা।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares
error: Content is protected !!