| |

পটিয়ায় সীমানা নিয়ে বিরোধ : এক মহিলা খুন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ৩ ঘন্টা অবরোধ

প্রকাশিতঃ 11:11 pm | January 20, 2018

পটিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে সেলিম চৌধুরী : চট্টগ্রামের পটিয়ায় সীমানা প্রাচীর নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের ইট নিক্ষেপের আঘাতে জয়নাব বেগম (৪০) নামে এক মহিলা খুন হয়েছে। প্রতিপক্ষরা লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও পাথর ছুঁড়ে এই মহিলাকে হত্যার কথা জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে  শনিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় পটিয়া উপজেলা ভূমি অফিস সংলগ্ন গাজী কনভেনশন হল’র পিছনে।

জয়নাব বেগম হত্যকান্ডের পর তার এলাকাবাসী ও আত্মীয়-স্বজন পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে চট্টগ্রাম-কক্সবাজাার মহাসড়কে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও টায়ার জ¦ালিয়ে ৩ ঘন্টা ব্যারিকেড দিয়ে অবরোধ করে রাখে। এতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যানবাহন চলাচল এক প্রকার বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দূর পাল্লার লোকজন চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় পরিবহন যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) একেএম এমরান ভূঁইয়া ও পটিয়া থানার ওসি (তদন্ত) রেজাউল করিম মজুমদার ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরোধকারীদের খুনিদের দফায় দফায় গ্রেফতারের আশ^াসের পরিপ্রেক্ষিতে ৩ ঘন্টা পর এলাকাবাসী অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়।

এব্যাপারে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো: নেয়ামতউল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, যিনি খুন হয়েছেন তাদের বাড়ির পাশেই একটি কমিউনিটি সেন্টার আছে। ঐ কমিউনিটি সেন্টারের সীমানা প্রাচীর নিয়ে জয়নাব বেগমদের বিরোধ রয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছে। এরপর খুনের ঘটনা ঘটেছে। পাথর ছুঁড়ে মারার পর সেটা মাথায় লেগে মৃত্যু হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। এছাড়া লোহার রড দিয়ে পেটানোর বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওসি শেখ নেয়ামত উল্লাহ।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, পটিয়া পৌরসভায় ভূমি অফিসের সামনে গাজী কনভেনশন সেন্টার নামে কমিউনিটি সেন্টার এবং চারতলা আবাসিক ভবনটি পাশাপাশি।

গাজী কনভেনশন সেন্টারের মালিক প্রবাসী গাজী মো: আসলাম। তার ভাই গাজী মো: আবু তাহের ও গাজী গিয়াস উদ্দিন কমিউনিটি সেন্টারের দেখভাল করেন। আর চারতলা ভবনের মালিক প্রবাসী নুরুল আবছার। কমিউনিটি সেন্টারের সীমানা প্রাচীর ঐ ভবনের দুই ফুট জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ করে সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে একটি আবেদন করা হয়েছিল। চারদিন আগে সেই সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় গাজী আসলামের আরেক ভাই গাজী গিয়াস বাদি হয়ে পটিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে সীমানার প্রাচীর ভাংচুর মামলা দায়েরের ঘটনায় চরম অসন্তোষ বিরাজ করে আসছিল।

এর জের ধরে গতকাল শনিবার সকাল ৭টা থেকে কমিউনিটি সেন্টারে শত শত তরুণ-যুবকের জমায়েত হয়। তাদের উপস্থিতিতে কমিউনিটি সেন্টারের মালিকপক্ষ সেখানে সীমানা প্রাচীরের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এসময় নুরুল আলমের স্ত্রী জয়নাব বেগম প্রতিবাদ করলে ঝগড়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে ব্যাপক হট্টগোলের মধ্যে প্রতিপক্ষরা তাদের বাসায় ঢুকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে তাকে হত্যা করেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানিয়েছে।

আবার একই সময়ে ভবনটি লক্ষ্য করে কমিউনিটি সেন্টার থেকে পাথর ছুঁড়তে দেখার কথাও জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র। গুরুতর আহত জয়নাবকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। তবে জয়নাব বেগমের পরিবারের দাবি করেছেন মূল ঘটনার নেপথ্যকারী গাজী গিয়াস উদ্দিন সহ অজ্ঞাতনামা ২০/২৫ জন সন্ত্রাসীদের ইটের আঘাতে জয়নাব বেগম খুন হয়েছে।

এ ব্যাপারে পটিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে পটিয়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে এলাকায় এ নিয়ে আতংক ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

 


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।