| |

চাঁপাইনবাবগন্জের আম বাজার কানসাটে, প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অমান্য করে – ৪৬ কেজিতে মণ।ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে আম চাষীরা

প্রকাশিতঃ 11:18 pm | June 01, 2017

ফয়সাল আজম অপু , বিশেষ প্রতিনিধিঃ- আম ক্যালেন্ডার ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত আম ব্যাবসায়ী, আড়ৎদার, আম চাষী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মতামতের ভিত্তিতে নেয়া ৪০ কেজিতে আমের মণ এবং ডিজিটাল মিটারে আম ক্রয়-বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত মানছে না দেশের বৃহত্তর আম বাজার কানসাটের আড়ৎদাররা।

প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট আম বাজারে চাষীদের কাছ থেকে মণে নেয়া হচ্ছে ৪৬ কেজি। কিছু আড়তে ডিজিটাল মিটার থাকলেও বেশিভাগ আড়তে এই মিটারের পরিবর্তে সাধারণ পাল্লাতেই চলছে আম বেচা-কেনা। ৪৬ কেজিতে মণ হলেও আবার সাধারণ পাল্লায় ওজনে এমনিতেই আরও ২/৩ কেজি বেশী নেয়া যায় চাষীদের ঠকিয়ে আম। তাই পুরাতন প্রথা ছেড়ে নতুন প্রথা মানতে রাজি নন আড়ৎদাররা।

আর এর অত্যাচারের প্রতিকারের আশায় দিন গুনছেন আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা। এক শ্রেণীর অসাধূ আড়ৎদাররা বাইরের জেলা থেকে আসা ব্যাপারীদের বাড়তি সুবিধা দিতে চাষীদের ঠকিয়ে আমের এই বেশী ওজন নিয়ে থাকে। নিজেদের লাভ না হলেও ব্যাপারীদের স্বার্থে করা এই প্রতারণা দীর্ঘদিন থেকে চালিয়ে আসায় নতুন নিয়ম মানতে চান না আড়ৎদাররা। নিজ এলাকার চাষীদের কথা না ভেবে, ভাবেন ঠকাতে আসা ব্যাপারীদের কথা। আবার এসব ব্যাপারীরা অনেক সময়ই এসব আড়ৎদারদের টাকা পরিশোধ না করায় বেকায়দায় পড়েন ওইসব আড়ৎদার।

তবে, চাষীদের ঠকিয়ে ওজনে বেশী নেয়ার কাজটি করেন সব আড়ৎদারই। জেলা প্রশাসনের বেঁধে দেয়া সিদ্ধান্তে আম বিক্রির জন্য চাষীরা চেষ্টা চালালেও কানসাট আম আড়ৎদার সমিতির নেতৃবৃন্দ আম ক্রয় বন্ধ রেখে ষড়যন্ত্র করে। চাষীরাও আম বাজারজাত করণ থেকে বিরত থাকে। জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার কানসাট হেমন্ত নাট্য মঞ্চে আম সমিতির নেতৃবৃন্দরা এবং আম আড়ৎদাররা এক সভা করেন। সভায় ৪৬ কেজিতে মণ ও শতকরা ১০ টাকা কমিশন নেয়ার নির্ধারণ করা হয়েছে বলে অনেক আম আড়ৎদাররা জানান। কিন্তু আম ব্যবসায়ী, আড়ৎদার, আম চাষী ও গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গের মতামতের ভিত্তিতে নেয়া ৪০ কেজিতে আমের মণ এবং ডিজিটাল মিটারে আম ক্রয়-বিক্রয়ের প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে চাষীদের উপর নির্যাতন করছে আম আড়ৎদাররা। এসবের সাথে জড়িত রয়েছে স্থানীয় কিছু সুবিধাভোগীরাও। আড়ৎদারদের সুবিধার সুযোগে নিজেদের সুবিধা আদায়ের জন্য এসব সুবিধাভোগীরা চাষীদের ঠকানোর কাজে সহায়তা করেন আম আড়ৎদারদের। অসহায় হয়ে পড়েন বিভিন্নস্থান থেকে আসা আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা।

এবিষয়ে কানসাট আম বাজারের কয়েকজন আড়ৎদার জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে কানসাট বাজারে আড়ৎদার সমিতির লোকজন মিটিং এ বসি। মিটিং এ সিদ্ধান্ত হয়, ৪৬ কেজিতে মন হিসেবে নেয়ার। যা অন্যান্য উপজেলার আম বাজারগুলোতেও নেয়া হচ্ছে। তারা আরও জানান, জেলা প্রশাসক তো একটা জেলার জন্য, এ জেলার ৫ উপজেলার মধ্যে ৪ উপজেলাতেই ৪৬/৪৭ কেজিতে মন নেয়া হচ্ছে। তাহলে শিবগঞ্জ উপজেলাতে কেন একই নিয়ম হবে না? কানসাট কি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বাইরে? এ ব্যাপারে আম বিক্রি করতে আসা কয়েকজন আম চাষী বলেন, জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত কোন আড়ৎদাররা মানছে না। জোর করে আমাদের কাছ থেকে ৪৬ কেজিতে মণ এবং শতকরা ১০ টাকা কমিশন নিচ্ছে। আমরা এমন অনিয়ম ও অত্যাচারের সুষ্ঠু সমাধান চাই।

এদিকে, কানসাট আম আড়ৎদার সমন্বয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজি এমদাদুল হক এমদাদ জানান,  প্রশাসনের সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের জন্য আমরা গত বৃহষ্পতিবার কানসাট হেমন্ত নাট্য মঞ্চে আম আড়ৎদারদের নিয়ে মিটিং করেছি। এতে আম চাষিদের পক্ষে বিভিন্ন গুরুত্ব দিয়ে সভায় আলোচনা করা হয়েছে। আলোচনা সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে আম চাষীদের টাকা শতভাগ নিশ্চিত করতে আম আড়ৎদারদের নগদে আম কিনতে হবে। সঠিক ও স্থানীয় আম আড়ৎদারদের তালিকা প্রণয়ন করা। যাতে সাধারণ আম ব্যবসায়ী ও চাষীরা প্রতারিত না হয়। সাধারণ আম ব্যবসায়ী ও চাষীদের প্রতারণার হাত থেকে রক্ষার্থে সঠিক ও স্থানীয় আম আড়ৎদারদের তালিকা প্রণয়ন করে তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ফাকা চেকে সই করে নেয়া হচ্ছে। ভূয়া আড়ৎদারদের ঠেকাতে আড়ৎদারদের তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে। আম আড়ৎদারদের বলা হয়েছে প্রশাসনের বেঁধে দেয়া সিদ্ধান্ত মেনে ৪০ কেজিতে মণ আম নিতে হবে।

তবে, কোন আড়ৎদার যদি আম ব্যবসায়ীকে বুঝিয়ে বেশি নিতে পারেন তাহলে সেটা আম ব্যবসায়ী ও আড়ৎদারদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তিনি বলেন, আম চাষীদের সাথে কোন আড়ৎদার দূর ব্যবহার করতে পারবে না। শতকরা ১০ টাকা কমিশনের বিষয়ে জানতে চাইলে আম সমিতি সাধারণ সম্পাদক কাজি এমদাদুল হক এমদাদ বলেন, শতকরা কমিশনের বিষয়ে কোন আলোচনা হয়নি। যে আড়ৎদাররা এ বিষয়টি বলছে, তারা বিভ্রান্ত সৃষ্টি করছে। আমরা মিটিংয়ে যে সব বিষয়ে আলোচনা করেছি, তা ৮০ শতাংশ আম চাষীদের পক্ষে। এছাড়া মিটিংয়ে আরো আলোচনা করা হয়েছে কোন আড়ৎদার যদি অবৈধ্য পণ্য লোড করে তাহলে সে আড়ৎদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এছাড়া আম ট্রাকে লোড করার সময় ট্রাক চালকের নাম, চালকের সহকারির নাম, ট্রাকের নম্বর, দালালের নাম, আড়ৎদারের নাম লেখা হবে। যদি কোন ধরণের অবৈধ্য পণ্য পাওয়া যায় তাহলে তাৎক্ষনিক আইন ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে কানসাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ বেনাউল ইসলাম বলেন, আড়ৎদাররা যে মিটিং করছে তা আমার জানা নাই। শুনেছি, প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে না মেনে নিজেদের স্বার্থের জন্য মিটিং করে আম ৪৬ কেজিতে মণ নিচ্ছে। সাথে আবার শতকরা ১০ টাকা কমিশন নিচ্ছে। কিন্তু সে সিদ্ধান্ত বিধি বহির্ভূত। যা নিজেদের স্বেচ্ছাচারিতা মাত্রই। সাধারণ আম চাষীদের কথা না ভেবে, আম আড়ৎদার সমন্বয় কমিটির নেতাকর্মীরা বাইরে থেকে আসা ব্যাপারীদের পকেট ভরাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আমি এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সকল আম আড়ৎদারকে অনুরোধ করছি, চাষীদের কথা মাথায় রেখে ব্যবসা করার জন্য।

এব্যাপারে বৃহষ্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল হাসান জানান, এবছর আম ক্যালেন্ডার প্রণয়ন সভায় জেলায় আম ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য আলোচনার মাধ্যমে ৪০ কেজিতে মন এবং ডিজিটাল মিটারে ওজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আমে কোন প্রকার কেমিক্যাল যেন ব্যবহার না হয়, সেজন্যই সভায় সিদ্ধান্ত হয়। কানসাট আম বাজারে ৪৬ কেজি ওজনে মণ হিসেবে আম বিক্রি হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কানসাটে ওজনে বেশি নেয়ার বিষয়টি শুনেছি, আড়ৎদারদের সাথে আলোচনা ও আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা হবে।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares
error: Content is protected !!