| |

দুর্ঘটনায় বেড়েছে নিহতের সংখ্যা

প্রকাশিতঃ 2:17 am | January 05, 2018

দেশে আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে সড়ক দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো অঞ্চলে সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যাচ্ছে। কিন্তু ভয়াবহ এ দুর্ঘটনাগুলো কেন হচ্ছে কারা এজন্য দায়ী তা শনাক্ত করে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মনোযোগ ও তৎপরতা চোখে পড়ছে না। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করার কারণেই এর পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়ার কারণেই এ দেশের মানুষ আপনজন হারিয়ে চোখের পানি ঝরাচ্ছে আর নিঃস্ব হচ্ছে অসংখ্য পরিবার। অথচ কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ নিলে দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব।

এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনায় নিহত মানুষের সংখ্যা ২৭ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৬ সালে সারা দেশে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিল চার হাজার ১৪৪ জন। ২০১৭ সালে সেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৬৪৫ জন। এই তথ্য জানিয়েছে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)। এই তথ্য নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক।

বাংলাদেশে এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় সাড়ে আট হাজার জন নিহত হন বলে পরিসংখ্যান প্রকাশ করে যাত্রী কল্যাণ সমিতি নামের একটি সংগঠন। তবে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য চালকদের অদক্ষতাকে দায়ী করেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা। একই মত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়েরও।

আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, দুর্ঘটনা আর অপমৃত্যুর দেশে কেন পরিণত হবে আমাদের এ দেশটি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কেবল প্রশিক্ষণই নয়, চালকদের শিক্ষাগত যোগ্যতার দিকে নজর দিতে হবে। সড়কপথে যেমন মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে তেমনি বাড়ছে নৌরুটেও। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই আমাদের দেশের বিভিন্ন নৌরুটে নৌ-দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পায়। আর এসব দুর্ঘটনায় পড়ে প্রতি বছরই মারা যায় শত শত মানুষ। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে অনেক কথা বলা হয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতি বদলায়নি। কিন্তু কেন? এর উত্তর মেলা কঠিন। তবে রাষ্ট্র যদি ইচ্ছে করে তাহলে অনেক কিছুই সম্ভব। নিরাপদ সড়কের জন্য কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকেই। পাশাপাশি বিচারহীনতার সংস্কৃতিও বন্ধ করতে হবে।

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট চলচ্চিত্র অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন নিরাপদ সড়কের জন্য দীর্ঘ দেড় দশক ধরে আন্দোলন করে আসছেন। এজন্য তাকে অপমানও সইতে হয়েছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া এখনো পাননি। তিনি আগেও বলেছেন, ‘ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও গণপরিবহণের মধ্যে কোনো সমন্বয় না থাকার কারণে দুর্ঘটনা বেড়েছে।’

অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করলে দেশবাসীকে ঘন ঘন দুর্ঘটনা প্রত্যক্ষ করা লাগত না। আর এত প্রাণও ক্ষয় হতো না। আসলে সড়ক অব্যবস্থাপনা, অদক্ষ ও অসচেতন চালক এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘিত হওয়ার কারণেই মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার কমাতে হলে দোষীদের তাৎক্ষণিক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণকেও সড়কপথে ভ্রমণ ও রাস্তা পারাপারের ক্ষেত্রে আরও সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি দক্ষ ও শিক্ষিত চালকের সংখ্যা বাড়াতে হবে। তার আগে নতুন আইন প্রয়োজন। পরিকল্পিত ও সফল উদ্যোগই কেবল পারে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু রোধ করতে।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।