| |

ডা. মিলন ও নূর হোসেন হত্যার বিচার করবেন এরশাদ!

বাংলাদেশের জনপ্রিয় ও সর্বশেষ খবর পেতে আ্যপসটি ইনস্টল করুন

প্রকাশিতঃ 1:23 am | January 02, 2018

স্টাফ রিপোর্টার :এরশাদবিরোধী আন্দোলনে গুলিতে দুই আলোচিত রাজনৈতিক কর্মী ডা. মিলন এবং নূর হোসেন হত্যার ঘটনায় দায় অস্বীকার করেছেন সাবেক সেনা শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সেই সঙ্গে ক্ষমতায় যেতে পারলে এই দুই হত্যার বিচারের ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

প্রায় তিন দশক আগে মিলন হত্যার নয় দিনের মাথায় গণ আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হওয়া এরশাদ দলের ৩২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠনে এই ঘোষণা দেন। সোমবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এই অনুষ্ঠান হয়।

আমার হাতে রক্তের দাগ নেই, এমন দাবি করে এরশাদ বলেন, ‘প্রতিবছরই ২৭ নভেম্বর ডা. মিলন দিবস পালন করা হয়। কিন্তু এর বিচার কেন হলো না? আমরা ক্ষমতায় গেলে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার করব।’

অনুষ্ঠানে ১৯৮২ সালে সেনা প্রধান থাকাকালে ক্ষমতা দখলের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন এরশাদ। দাবি করেন, তিনি হত্যাযজ্ঞ, নির্যাতন চালাননি, বরং ক্ষমতা ছাড়ার পর স্বজনসহ তিনি এবং দলের নেতা-কর্মীরাই নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

প্রায় নয় বছর রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা এরশাদকে হটাতে আন্দোলন যখন চূড়ান্ত পরিণতির দিকে আগাচ্ছিল তখন ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় একটি মিছিলে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের তৎকালীন যুগ্ম-মহাসচিব ডা. শামসুল আলম খান মিলন। আর এই ঘটনা আগুনে ঘি ঢালে এবং নয় দিনের মাথায় ৬ ডিসেম্বর পদত্যাগে বাধ্য হন এরশাদ।

গত ২৭ বছর ধরেই মিলন হত্যা দিবস পালন করে আসছে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। কিন্তু এই হত্যার বিচার শেষ করা যায়নি। এ জন্য মিলনের স্বজনরা প্রায় প্রতি বছরই তাদের হতাশার কথা বলেন।

মিলন হত্যার পাশাপাশি যুবলীগ কর্মী নূর হোসেন হত্যার দায়ও অস্বীকার করেন এরশাদ। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে বুকে ও পিঠে ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক’ স্লোগান লিখে বের হয়েছিলেন নূর হোসেন। তিনও গুলিতে নিহত হন।

এরশাদ বলেন, ‘একই মাসে (নভেম্বর) মিছিল করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারানো নূর হোসেনের হত্যার দায় আমার না। নূর হোসেনকে কারা মেরেছে আমরা জানি না। তবে ক্ষমতায় গেলে এ বিষয়টাও খতিয়ে দেখা হবে।’

‘ক্ষমতা নিতে বাধ্য হয়েছিলাম’

১৯৮২ সালে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আবদুর সাত্তারের কাছ থেকে ক্ষমতা দখলকারী এরশাদ সে সময় ক্ষমতা গ্রহণের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে দাবি করেন, দেশের পরিস্থিতিতে তিনি সেদিন বাধ্য হয়েছিলেন, তার জায়গায় অন্য কেউ সেনা প্রধান হলেও তিনি বাধ্য হতেন।

‘সুখ তো নাই-ই, দুঃখের কথা বলি’- এই বলে সেই ইতিহাস বর্ণনা করেন। বলেন, ‘জাস্টিস সাত্তার (জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি) আমার কাছে এসে বললেন, তার মন্ত্রীরা দুর্নীতিবাজ, তাই তিনি ক্ষমতা সেনাবাহিনীর কাছে ছাড়তে চান।’

‘আমি ছিলাম সেনাবাহিনীর প্রধান, আমার জায়গায় অন্য কেউ থাকলেও ক্ষমতা নিতে হতো। তাই ১৯৮২ সালে বাধ্য হয়ে আমি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেই’-বলেন এরশাদ।

এরশাদের দাবি, তিনি রাষ্ট্র ক্ষমতা ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। বলেন, ‘আমি ব্যারাকে ফিরে যেতে চেয়েছি, তাই ১৯৮৪ নির্বাচন দিয়েছিলাম, তখন জাতীয় পার্টি ছিল না। কোন দল আসেনি।’

আগের সেনা শাসক জিয়াউর রহমানের পথ ধরেই ক্ষমতায় থেকে দল গঠন করেছিলেন এরশাদ। সেই প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘দেশকে তো এভাবে অধোঃপতনের দিকে ফেলে দেয়া যায় না। তাই ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি জাতীয় পার্টি গঠন করি। চারমাস পর নির্বাচনে একমাত্র বিএনপি ছাড়া বাকি সব দল আসলো। সেই নির্বাচনে ১৫৩টিরও বেশি আসন পেয়ে ক্ষমতায় আসি। আমার হাতে রক্তের দাগ নেই।’

১৯৯০ সালে গণ অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হওয়া এই সেনা শাসক অভিযোগ করেন, ক্ষমতা ছাড়ার পর তিনি নিজে, তার পরিবার ও দলের অনেক নেতা-কর্মীকে নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

‘আওয়ামী লীগ তিন বারই ক্ষমতায় গিয়েছে জাতীয় পার্টির সহযোগিতায়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কেউই আমাদের প্রতি সুবিচার করেনি।’

‘৯৬ সালে সরকার গঠনে সহায়তা চেয়েছিল বিএনপি’

১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকার গঠনে জাতীয় পার্টির সমর্থন চেয়েছিল জানিয়ে এরশাদ জানান, তাকে সে সরকারের প্রধানমন্ত্রী করার প্রস্তাবও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।

সাবেক সেনা শাসক বলেন, ‘১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি পেয়েছিল ১৩৪ আসন, জাপা পায় ১৬, আর আওয়ামী লীগ ১৪৪ আসন পায়, জামায়াতের ছিল তিনটি। আমরা বিএনপির সঙ্গে যোগ দিলে জামায়াতের তিনটিসহ ১৫৩টি আসন নিয়ে সরকার গঠন করত বিএনপি।’

‘১৯৯৬ সালে জেলে আমার কাছে মধ্যরাতে লোক পাঠিয়েছিল বিএনপি। সমর্থন চেয়ে বলেছিল- আমি প্রধানমন্ত্রী হতে চাইলেও তাদের আপত্তি নেই। কিন্তু আমি আওয়ামী লীগকে সমর্থন দেই, তারা সরকার গঠন করে।’

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গিয়ে জাতীয় পার্টির সঙ্গে অন্যায় করেছে অভিযোগ করে দলের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমার দলের মহাসচিব আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে দিয়ে আমার দল ভাঙা হলো।।’

জাতীয় পার্টি এখন ‘বিগ ফ্যাক্ট ইন পলিটিক্স’ এমন দাবি করে এরশাদ বলেন, ‘এতোদিন পরে আমরা নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছি এবং এমন অবস্থায় দাঁড়িয়েছি, জাতীয় পার্টি ছাড়া নির্বাচন হবে না।’

সভার শেষে জাপা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সমবেত নেতাকর্মীরা রাজধানীতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দ শোভাযাত্রা বের করেন। মৎস্য ভবন, জাতীয় প্রেসক্লাব, পল্টন হয়ে কাকরাইলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয় এই মিছিল।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ফেব্রুয়ারির ১৫ তারিখে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ করারও ঘোষণা দেন এরশাদ।

উৎস‌বমুখর পরিবেশে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

এর আগে ২০১৮ সালের প্রথম প্রহরে বনানীতে দলের কার্যালয়ে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন মহাসচিব রুহুল আমীন হাওলাদার। সকালে কাকরাইলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় নেতা ক‌র্মীদের সাথে নিয়ে কেক কেটে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।

পরে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আলোচনায় যোগ দেন দলের শীর্ষ নেতারা। এই আয়োজনে অংশ নিতে দেশের বি‌ভিন্ন এলাকার নেতাক‌র্মীরা অংশ নেন। ‘আওয়ামী লীগের প্রতিদ্ব‌ন্দ্বী বিএন‌পি নয়, জাতীয় পা‌র্টি’- এই মর্মে স্লোগানও দেন তারা।

‌সকাল ১০ টা ৫৪ মি‌নি‌টে সভাস্থ‌লে আসেন এরশাদ। ১০টা ৫৭ মি‌নিটে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন এরশাদ। এরপর জাজীয় সঙ্গীত ও কোরআন তেলাওয়াতের পর আবার দলীয় সঙ্গীত গান নেতা-কর্মীরা। আর এরশাদ ও দলের সিনিয়র কো চেয়ারম্যান রওশন এরশাদের সঙ্গে দলীয় সঙ্গীত ‘নতুন বাংলাদেশ গড়বো মোরা, নতুন ক‌রে আজ শপথ নিলাম’ গান নেতা-কর্মীরা।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares
error: Content is protected !!