| |

চট্টগ্রামের সবজির বাজার নিয়ন্ত্রনে,হিমাগারের অভাবে বছরে কৃষকদের কোটি টাকা লোকসান

বাংলাদেশের জনপ্রিয় ও সর্বশেষ খবর পেতে আ্যপসটি ইনস্টল করুন

প্রকাশিতঃ 5:14 pm | December 27, 2017

মীরসরাই প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের শীর্ষ কৃষিপ্রধান জনপদ মীরসরাই উপজেলা। এক পার্শ্বে কৃষি সবজি পন্যের উর্বর ভূমি সীতাকুন্ড, অপর পার্শ্বে পার্বত্য কৃষি উর্বর জনপদ রামগড়। মধ্যখানে বারৈয়ারহাট ও মীরসরাইয়ের বুকচিরে বয়ে গেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেলপথ। যেখান থেকে দেশের যে কোন স্থানে অবলিলায় বহন করা যায় যে কোন কৃষি পন্য।

বিশেষ করে উন্নত জাতের টমেটো, সিম, ফুলকপি , বাধাকপি, বেগুন এই অঞ্চলের সেরা মৌসুমী সবজি। এখানকার সীমের বীচি মধ্যপ্রাচ্য সহ ইউরোপে ও বেশ সমাদৃত। কিন্তু এক শ্রেনীর সুবিধাভোগী দাদাল চক্রের দরুন এই অঞ্চলের কৃষকরা মারাত্মক লোকসানের সম্মুখিন হয়। এই অঞ্চলের চাহিদা অনুযায়ী কয়েকটি হিমাগারের আবশ্যকতার কথা জানান বিভিন্ন পর্যায়ের পর্যবেক্ষক গন। অথচ স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর ও গড়ে উঠেনি একটি হিমাগার ও।

অথচ মীরসরাইয়ে এতো বেশী মৌসুমী সবজি উৎপাদিত হয় যে এই অ ঞ্চলে একটি হিমাগার স্থাপিত হলে ও চট্টগ্রামের সবজির বাজার নিয়ন্ত্রনে রাখা সম্ভব।

গেল বছর এখাকার কৃষকরা ২ টাকা করে বিক্রি করতে পারেনি মুলা। সারা বছর এখানকার টমেটো ১০০ টাকা করেই দেশ জুড়ে বিক্রি হয়। এখান ভোক্তাগন ও ১০০ টাকা কেজী হিসেবে কিনতে হয়। অথচ গত মৌসুমে ও কৃষকদের কাছ থেকে ৫টাকায় কিনে পাইকাররা। অথচ একটি হিমাগার থাকলে এখানকার ভোক্তার ন্যুন্যতর ১০ গুন দামে হলে ও টমেটো ৫০ টাকায় সারা বছর পেত। তাতে ও হিমাগার ও পাইকার সকলেই লাভবান হতেন।

প্রতি বছরের ন্যায় গেল অগ্রহায়ণ থেকে চলতি পৌষে প্রতিদিন ভোর বেলায় মহাসড়কের পাশের ছোট বড় অন্তঃত ২০টি হাটে সবজির পাইকার হাট বসছে। চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা থেকে পাইকাররা এই সব হাট থেকে নিত্য কৃষকদের থেকে কিনে ট্রাকে ট্রাকে সবজি এখান থেকে নিয়ে যাচ্ছে। উপজেলার সোনাপাহাড়, বারইয়াহাট, মিঠাছরা, বড়তাকিয়া, ছরারকূল, নয়দুয়ারিয়া, হাদিফকিরহাট, বড়দারোগারহাট, জোরারগঞ্জ অন্যতম হাট।

মীরসরাই উপজেলা কৃষি সুপারভাইজান নুরুল আলম থেকে জানা যায় মীরসরাই উপজেলায় মৌসুমী সবজি উৎপাদন হয় প্রায় ৪হাজার ২ শত ১০ হেক্টর জমিতে। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর ও

অন্তঃত কয়েক হাজার টন করে টমেটো, সীম, ফুলকপি, বাধাকপি, তিতা করলা, মুলা ও অন্যান্য মৌসুমী সবজি উৎপাদিত হয়। মৌসুমের শুরুতে কৃষকরা মোটামুটি মূল্য পেলে ও পৌষ মাসের মাঝামাঝি থেকে ফলন পুরো দমে বাজারে আসতে শুরু করলে অনেকটা জলের দরে পাইকারদের হাতে সোপর্দ করতে হয়।

এই বিষয়ে উপজেলার সোনাপাহাড় এলাকার টমেটো চাষী ইকবাল হোসেন বলেন অনেক দিন ধরেই শুনে আসছি একটা হিমাগার হবে আমাদের আর সস্তায় বিক্রি করতে হবে না। কিন্তু এক পর্যায়ে পাইকাররা টমেটো ৫টাকার বেশী দিতে চায় না। অথচ তখন ও বাজারে ১৫ টাকার কম থাকে না।

মৌসুমের পর তো ১০০ টাকাই খেতে হয় ৯ মাস ধরে। অন্যান্য সবজির ও একই অবস্থা।
এই বিষয়ে মীরসরাই উপজেলা কৃষি অফিসার বুলবুল আহমেদ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন বিষয়টি নিয়ে আমি উপজেলা সমন্বয় সভায় আলোচনা করবো।

তিনি বলেন একটি হিমাগার কোনভাবে গড়ে উঠলে এলাকার সকলের জন্যই মঙ্গল । অন্তঃত কাউকে নিরাপত্তার ঝুকিপূর্ণ সবজি খেতে হবে না। এলাকার কৃষকদের উৎপাদিত উত্তম ফলনই এলাকার ভোক্তাগন পাবেন। আবার ভালো দামে অন্যত্র বিক্রি ও সম্ভব হবে। তিনি আরো বলেন অন্তঃত কোটি কোটি টাকার আয় বাড়বে এখানকার কৃষকদের ও ।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares
error: Content is protected !!