| |

চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত পরিত্যাক্ত ঝিলটি হতে পারে শ্রেষ্ঠ বিনোদন কেন্দ্র

প্রকাশিতঃ 12:49 pm | December 01, 2017

ফয়সাল আজম অপু , বিশেষ প্রতিনিধি : চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের একেবারে প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত আজাইপুর সংলগ্ন বিশাল ঝিলটি অযত্নে আর অবহেলায় পড়ে রয়েছে কয়েক শতাব্দী ধরে। সেখান থেকে জন্ম হচ্ছে মশা আর কচুরিপানার। কোন কাজেই আসছে না প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ ও কোয়ার্টার কিলোমিটার প্রশস্ত এই ঝিলটি। যার অবস্থান শহরের শান্তির মোড় থেকে একেবারে বটতলা হাট পর্যন্ত। দুই ধারে বিশাল জনপদের ১১টি মহল্লার কয়েক হাজার পরিবার বসবাস করে এখানে। তাদেরও কোন কাজে আসছে না বিশাল এ ঝিলটি। অথচ এ ঝিলটি সংস্কার করলেই শহরের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিনোদন কেন্দ্রসহ বছরে কয়েক কোটি টাকার মাছ চাষ করা সম্ভব।
স্বাধীনতা-পরবর্তী কয়েকবার ঝিলটি সংস্কারে কয়েক হাজার টন গম বরাদ্দ দিলেও তার কোন সঠিক হিসাব কারও কাছে মিলছে না। বেশকিছু দিন ধরে শোনা যাচ্ছে একাধিক মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এটি সংস্কার করবে। আজাইপুর বিল সংষ্কার কমিটির আহবায়ক শহীদুল হুদা অলক জানান, বিশাল এ ঝিলটি রক্ষনাবেক্ষণের জন্য এ কমিটি গঠন করা হয়। ডাকের মাধ্যমে বেশ কিছুদিন আগে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকায় ঝিলটি সংস্কারের জন্য এ টাকা পাওয়া যায়। সে সময় এ টাকা দিয়ে ঝিলের কচুরিপানাসহ ঝিল খনন করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে আবার এ ঝিলটি আগের অবস্থায় ফিরে গেছে।
সরজমিনে দেখা যায় বিশাল ঝিলটির পুরোটাই এখন কচুরিপানায় ভর্তি হয়ে গেছে। দেখলে মনে হবে এটা কোন ঝিল নয়, একটা বিশাল খেলার মাঠ। যতদুর চোখ যায় শুধু কচুরিপানায় ভর্তি। বিল সংস্কার কমিটির আহবায়ক শহীদুল হুদা অলক আরো জানান, সে সময় আমরা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম, সাবেক ছাত্র নেতা সামিউল হক লিটনসহ আরো গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি করে ঝিলটি সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করি। সে সমস্যার সমাধানে আমরা সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদ এর স্বরনাপন্ন হলে তিনি আমাদের আড়াই লক্ষ টাকার ব্যবস্থা করে দেন। আর সামিউল হক লিটন দেন এক লক্ষ টাকা। বিশাল এ ঝিলের সংস্কারের জন্য সাড়ে তিন লক্ষ টাকা খুব সামান্য হয়ে পড়ে।
যা পরবর্তীতে টাকার ভার আমার ঘাড়ে এসে পড়ে। তিনি আরো বলেন, শুধু ঝিল সংস্কার নয় আমরা পুরো ঝিলের পাড়ে লাইটের ব্যবস্থা করা, ঝিল খনন করা, ঝিলের পাঁচটি স্থানে সিঁড়ি ঘাট নির্মাণ করা, ঝিলের পাড়ে বৃক্ষ রোপন করাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। যে টাকা পাওয়া গিয়েছিল তা কচুরিপানা পরিস্কার করতেই খরচ হয়ে যায়। পরবর্তীতে টাকার অভাবে ইচ্ছা থাকলেও আর কাজ করা যাচ্ছে না। ঝিলটির জন্য ঠিকমত টাকার বরাদ্ধ পেলে বিশাল এ ঝিলটি সংস্কার করে আধুনিক মানের বিনোদন স্পট তৈরি করা সম্ভব।
এ ব্যাপারে পৌর মেয়র মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, বিশাল এ ঝিলটির কচুরিপানা আগে পরিস্কার করতে হবে। এ ব্যাপারে আমরা সবার সাথে কথা বলে একটা উদ্যোগ গ্রহণ করব।
এলাকাবাসী ডা. শহীদ, ছাত্র জামিল, মুদি দোকানী জামানসহ আরো অনেকে জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত এ ঝিলটি অতি জরুরী ভিত্তিতে সংস্কার করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। তারা বলেন কচুরিপানাতে ভর্তির কারণে ঝিলটিতে মশার নিরাপদ আবাসন স্থান তৈরি হয়েছে। দিনে রাতে মশার উৎপাতে আমরা অতিষ্ঠ। তাছাড়া ঝিলটি সংস্কার করলে শহরে বড় ধরনের বিনোদন স্পট তৈরি হবে। সে ক্ষেত্রে পৌরসভা বিশাল রাজস্বও আয় করতে পারবে।
বিশাল আকারের এই ঝিলটি খুবই গভীর। এমনকি চৈত্র মাসেও ঝিলে পানি ভর্তি হয়ে থাকে। গভীরতার কারণে এপার ওপার হতে সাঁতরিয়ে পার হওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে। বিশাল ঝিলটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংযোজন করতে পারলে বিশাল অঙ্কের রাজস্ব আদায় হবে বলে সকলে মনে করেন।

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।