| |

৫ লাখের মধ্যে ৩২ হাজার রোহিঙ্গা বায়োমেট্রিকে নিবন্ধিত

বাংলাদেশের জনপ্রিয় ও সর্বশেষ খবর পেতে আ্যপসটি ইনস্টল করুন

প্রকাশিতঃ 5:54 pm | September 30, 2017

ষ্টাফ রিপোর্টার : গত ৩৫ দিনে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের ৩২ হাজার ২৫৩ জন বায়োমেট্রিক (আঙুলের ছাপ) পদ্ধতিতে নিবন্ধিত হয়েছেন। সরকারি এক তথ্য বিবরণীতে এ কথা জানানো হয়েছে।

সরকারি বিভিন্ন দফতর ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গা নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে এসেছে।

তথ্য বিবরণীতে বলা হয়েছে, কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ১২টি অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে মিয়ানমার নাগরিকদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩টি ক্যাম্পের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন কাজ এগিয়ে চলছে।

অপর তথ্য বিবরণীতে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে সরকারি উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

উখিয়ায় স্থাপিত নিয়ন্ত্রণ কক্ষে শুক্রবার ৯৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ১০১ ট্রাকের মাধ্যমে ৩৩৩ মেট্রিক টন ত্রাণ জমা দিয়েছে। এসব ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৪২ হাজার ৭০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ১৫ হাজার ৯৫০ প্যাকেট শিশু খাদ্য, ৯ হাজার ৫০০ প্যাকেট রান্না করা খাবার, ৩ হাজার প্যাকেট ওষুধ, ১ হাজার ৮০ পিস পোশাক, এক হাজার ৪২০ পিস গৃহস্থালি সামগ্রী, ২ হাজার ৪০০টি স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা তৈরির উপকরণ। এসব ত্রাণ আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমার নাগরিকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।   এতে আরও বলা হয়, শুক্রবার পর্যন্ত কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের ৩টি গুদামে ১২৬ টন চাল, ১৭ টন ডাল, ৩৪ হাজার ৩৮২ লিটার তেল, ৯ হাজার ৯৫১ কেজি লবণ, ৩২ টন চিনি, ১০ হাজার  কেজি ময়দা, এক টন গোলআলু,  ২১ হাজার ৭৬২ কেজি গুঁড়ো দুধ, ১৯ হাজার ৬০০ পিস কম্বল, ২০টি তাবু ও ত্রিপল মজুত রয়েছে।   শুক্রবার পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ছাড়াও তুরস্ক, আজারবাইজান, মরক্কো, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ভারত প্রভৃতি দেশ এবং দেশীয় বেসরকারি ৭১টি সংস্থার কাছ থেকে ত্রাণ সামগ্রী পেয়েছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন।

রোহিঙ্গাদের স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও সুপেয় পানির নিশ্চিতে শুক্রবার পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে এক হাজার ১১৩টি নলকূপ এবং এক হাজার ৩০১টি স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট স্থাপন করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে এক হাজার ২৫৯টি নলকূপ ও এক হাজার ৩৬৮টি স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা নির্মাণ করা হবে বলে তথ্য বিবরণীতে বলা হয়েছে।

চৌদ্দটি মোবাইল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে জানিয়ে তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, তিন হাজার লিটার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ছয়টি ভ্রাম্যমাণ ওয়াটার ক্যারিয়ারের মাধ্যমে উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন ক্যাম্পে নিরাপদ খাবার পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। পানি বিতরণ ব্যবস্থা সুবিধাজনক করতে ১ হাজার লিটার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ৮টি ওয়াটার রিজার্ভার স্থাপন করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কক্সবাজারে এরইমধ্যে ৬ লাখ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট মজুত রয়েছে।

রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজারে পর্যটন শিল্পে কোনো প্রভাব পড়েনি দাবি করে তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, রোববার পবিত্র আশুরার বন্ধসহ তিনদিন বন্ধ থাকায় কক্সবাজারে শুক্রবার পর্যটকের ঢল নামে।

জাতিগত নিপীড়নে পালিয়ে আসা মিয়ানমারের কয়েক লাখ রোহিঙ্গা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে বসবাস করছেন। সম্প্রতি মিয়ানমারের সীমান্তে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর চেক পোস্টে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ২৫ আগস্ট থেকে নতুন করে রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর অভিযান চালাচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনী। তখন থেকে রোহিঙ্গারা জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares
error: Content is protected !!