| |

দেশে মাদকের সিন্ডিকেট শনাক্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ 2:04 am | September 15, 2017

বিশেষ প্রতিনিধি : দেশের বেশিরভাগ স্থানেই মাদকের সিন্ডিকেট শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। পাশাপাশি নতুন নতুন লোক মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে বিধায় সিন্ডিকেটের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

মাদক নিয়ে পিরোজপুর-৩ আসনের এমপি রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বিনাবিচারে কোনো বন্দি দেশের কারাগারগুলোতে আটক নেই। তবে ৫ বছর বা তার বেশি সময় ৫৬৬ জন বন্দির বিচার কাজ চলমান রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে মাদকের সরবরাহ বন্ধে সরকার বিভিন্নমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করছে। সে লক্ষ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সব বাহিনী মাদক ব্যবসায়ী এবং অবৈধ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছে। এ কার্যক্রম জোরদার করতে সমন্বিত অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

আসাদুজ্জামান খান জানান, চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ৫৯ হাজার ৭৮৩টি মামলা দায়ের করে ৭৫ হাজার ৩২৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। কারাবন্দিদের দ্রুত বিচার শেষ করা নিয়ে চট্টগ্রাম-১২ আসনের এমপি সামশুল হক চৌধুরীর প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কারাবন্দিদের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০ আগস্ট আইন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সুপারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এদিকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থতি নিয়ে মানিকগঞ্জ-২ আসনের এমপি মমতাজ বেগমের প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান শর্ত হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিতকরণ। বর্তমান সরকারের যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরলস প্রচেষ্টায় যে উন্নয়ন হচ্ছে তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সরকার দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।

এ নিয়ে পুলিশের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, হামলা, অগি্নসংযোগ, সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তারসহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ইতোপূর্বে জঙ্গি, সন্ত্রাসী, নাশকতামূলক ও ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে এমন ব্যক্তিদের কর্মকা- ও গতিবিধি সম্পর্কে গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। জঙ্গি ও সন্ত্রাসীসহ সব অপরাধীর কর্মকা- রোধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, দেশে অবস্থানরত কূটনৈতিক, বিদেশি নাগরিক, পর্যটন এলাকায় ভ্রমণকারী বিদেশি পর্যটকসহ গুরুত্বপূর্ণ ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, কাউন্টার টেররিজম ইউনিট গঠন করে জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares
error: Content is protected !!