| |

ভালুকায় ৩টি বোমা ১টি গ্রেনেটসহ বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার,আটক-৭

বাংলাদেশের জনপ্রিয় ও সর্বশেষ খবর পেতে আ্যপসটি ইনস্টল করুন

প্রকাশিতঃ 6:21 pm | August 28, 2017

ভালুকা (ময়মনসিংহ) থেকে তমাল কান্তি সরকার : ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের ছোট কাশর গ্রামে রোববার সন্ধ্যায় একটি বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণে এক জঙ্গি নিহত ও দুই শিশু আহত হয়। এ ঘটনায় নিহত জঙ্গির স্ত্রী ও দুই শিশু পুত্র কে আটক করেছে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ বাড়ির মালিক ও তার স্ত্রী এবং দুই ছেলেকে আটক করে।

এ ঘটনায় সোমবার সকালে ঐ বাড়ীতে র‌্যাব, সি আই ডি, ডিবি, পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে ৩টি বোমা ও ১টি গ্রেনেট ও জিহাদি বই সহ বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরি সরঞ্জাম উদ্ধার করে। পরে কাউন্টার টেরিরিজমের ইউনিটের একটি দল বোমা নিষক্রিয় করে। এ সময় নিহত জঙ্গির বসত ঘরটি বোমার আঘাতে উড়ে যায়।   

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার বিরুই গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী ভালুকা উপজেলার কাশর গ্রামে আজিম উদ্দিনের বাড়ী গত ২২ আগষ্ট মঙ্গলবার নাটোর জেলার তেলকুপি গ্রামের আবুল কালাম প্রামাণীকে ছেলে জঙ্গী দলের সক্রিয় সদস্য আলম প্রামাণীক (৩৫) তার স্ত্রী পারভীন আক্তার (২৭) ও দুই শিশু সন্তান ইব্রাহিম (৮) ও  ইছাহাক (৩) কে নিয়া রাজ মিস্ত্রী পরিচয় দিয়ে বাসাটি ভাড়া নেয়। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় জঙ্গি আলম বোমা তৈয়ারীর সময় বোমা বিষ্ফোরণে নিহত হয়। এ সময় তার দুই শিশু পুত্র আহত হয়। আহত দুই শিশু পুত্রকে নিয়ে স্ত্রী পারভীন আক্তার পালিয়ে যাওয়ার সময় জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে ও ভালুকা মডেল থানা পুলিশের সহায়তায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তোফায়েল আহাম্মেদ বাচ্চু ইউনিয়নের সকল মসজিদে এক যোগে আহত জঙ্গি পালিয়ে যাচ্ছে বলে মাইকিং শুরু করলে এলাকাবাসীর সহায়তায় ভালুকা মডেল থানার ওসি (তদন্ত) হযরত আলী ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাষ্টারবাড়ী এলাকার উত্তরবঙ্গের একটি বাস কাউন্টারের পাশ থেকে আহত শিশু সন্তানদের কাপড় দিয়ে ঢাকা অবস্থায় আটক করে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর শিশু সন্তানদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

রোববার সন্ধ্যা থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত ২২ ঘন্টা র‌্যাব, ডিবি, ভালুকা মডেল থানা পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও অতিরিক্ত পুলিশ বাড়ীটি ঘিরে রাখে এবং ঘটনার পর রাতেই ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার সালেহ্ আহাম্মেদ ও ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি, পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলামসহ পুলিশের উর্ধোতন কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহি অফিসার মোশারফ হোসেন ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেন। সোমবার সকালে ঐ বাড়ীতে র‌্যাব, সি আই ডি, ডিবি, পুলিশ ও ঢাকা থেকে আসা কাউন্টার টেরিরিজমের ইউনিটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রহমত উল্যাহ চৌধুরীর নের্তৃত্বে আট সদস্যের একটি দল যৌথ অভিযান চালিয়ে ৪টি বোমা ও ১টি গ্রেনেটসহ বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরি সরঞ্জাম উদ্ধার করে পরে বোমা গুলি নিষ্কিয় করা হয়। বোমা নিষ্কিয় করার সময় জঙ্গির ভাড়া নেওয়া ঘরের ইটের দেওয়াল ধসে পড়ে যায় এবং বশত ঘরের টিনের চাল উড়ে যায়। এ সময় কাউন্টার টেরিরিজমের ইউনিটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রহমত উল্যাহ চৌধুরীর আহত হন। পরে পুলিশ নিহত জঙ্গির লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।  

এ ঘটনায় ভালুকা মডেল থানা পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ভাড়াটিয়া রোশেদা, নাছিমা ও শফিকসহ একাধিক ব্যাক্তি জানান,বোমা নিষ্কিয় করার সময় ঐ বাড়ীর আসপাশের লোকজনকে দূরে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং বোমা নিষ্কিয় করার সময় বোমার ভিকট শব্দে ৩/৪ কিলোমিটার পর্যন্ত শুনা যায়।

হবিরবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ বাচ্চু জানান, নিহত জঙ্গি আসন্ন ঈদ জামাত ও দুর্গা পুজা অথবা বড় কোন সভা সমাবেশে নাশকতার পরিকল্পনায় এই বোমা গুলি তৈরি করে থাকতে পারে। আমি ইতি পূর্বে সকল বাড়ীর মালিকদের নিয়ে পরিচয় বিহীন কোন লোককে যাতে বাড়ী ভাড়া না দেওয়া হয় এজন্য সভা সমাবেশ করেছি।

ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম জানান, ২২ ঘন্টা অভিযান চালিয়ে ৩টি বোমা ও ১টি গ্রেনেটসহ বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরি সরঞ্জাম এবং জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়। পরে বোমা গুলি কাউন্টার টেরিরিজমের ইউনিটের একটি দল নিষ্কিয় করে। জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে নিহত জঙ্গী দলের সক্রীয় সদস্য আলম প্রামাণীক আসন্ন ঈদ ও পুজার মধ্যে নাশকতা করার জন্য বোমা গুলি তৈরি করে আসছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares
error: Content is protected !!